লিওনেল মেসির এখন ম্যাচ মিস করা নতুন কিছু নয়। চোট ইদানীং এত ভোগাচ্ছে যে কোচরা তাঁকে মাঠে নামাতে সাহস পান না। এমনকি লিগস কাপে কোয়ার্টার ফাইনালে মায়ামির ম্যাচ মেসিকে দেখতে হয় গ্যালারিতে বসে। গ্যালারিতে থেকে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড যা দেখেছেন, তা নাটকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
বাংলাদেশ সময় আজ সকালে চেজ স্টেডিয়ামে লিগস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ইন্টার মায়ামি-টাইগার্স ইউএএনএল। এই ম্যাচের প্রথমার্ধে ইন্টার মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাশচেরানো দেখেছেন লাল কার্ড। কোচের লাল কার্ড দেখার ম্যাচে দলকে উদ্ধার করেছেন মেসির দীর্ঘদিনের বন্ধু লুইস সুয়ারেজ। সুয়ারেজের জোড়া গোলে ২-১ গোলে জিতে মায়ামি কেটেছে লিগস কাপের সেমিফাইনালের টিকিট।
ম্যাচের ২৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। টাইগার্স ডিফেন্ডার হাভিয়ের অ্যাকুইনো নিজেদের বক্সে হ্যান্ডবল করেছেন বলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছেন মায়ামির পক্ষে। পেনাল্টি থেকে ডান পোস্ট ঘেঁষে গোল করেন সুয়ারেজ। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করলেও মায়ামি তখন বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যায়। সতীর্থের সঙ্গে সংঘর্ষে মায়ামির ডিফেন্ডার জর্দি আলবা চোট পেয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে যে মাঠ ছেড়েছেন, পরে আর ফেরেননি। তখনই লাল কার্ড দেখেন মাশচেরানো। কারণ, প্রথমার্ধ শেষে ৬ মিনিট বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার পরও খেলা চালিয়ে যাওয়ায় ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান মাশচেরানো। এই ঘটনায় মায়ামির প্রধান কোচকে দেখতে হয় লাল কার্ড।
মাশচেরানো লাল কার্ড দেখায় ইন্টার মায়ামির কোচের দায়িত্ব পড়ে লিয়ান্দ্রো স্তিলিতানোর কাঁধে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যে সমতায় ফেরে টাইগার্স। ৬৭ মিনিটে হুয়ান ব্রুনেত্তার অ্যাসিস্টে সমতাসূচক গোল করেন টাইগার্স স্ট্রাইকার আনহেল কোরেয়া। ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হওয়া যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, তখন ফের এগিয়ে আসেন সুয়ারেজ। ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন সুয়ারেজ।
টাইগার্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে লিগস কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ইন্টার মায়ামি। তবে মায়ামি সেমিতে উঠলেও তারা মাশচেরানোকে পাবে না। এদিকে ৩ আগস্ট লিগস কাপে গ্রুপ পর্বে নেকাক্সার বিপক্ষে ম্যাচে মাংসপেশিতে চোট পান। দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকার পর রোববার এমএলএসে লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সির বিপক্ষে ফিরেছিলেন বদলি হিসেবে। কিন্তু সতর্কতাবশত আজ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে খেলায়নি। সেমিফাইনালে ফিরলে হয়তো সেখানেই সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন মেসি।