টাইব্রেকারে পঞ্চম শটটি নিতে যাচ্ছেন রোনান সুলিভান। গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন তখন দুই হাত প্রসারিত করে ক্ষণ গুনছিলেন। তাঁর কাজ শেষ, রোনানেই নির্ভর করছিল সবকিছু। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এই প্রবাসী প্রথম ম্যাচেই মন জয় করে নেন জোড়া গোল করে। শুরুর মতো এই গল্পের শেষটাও হলো তাঁকে দিয়ে। চাপা উত্তেজনাকর মুহূর্তে স্নায়ুচাপে না ভুগে ঠান্ডা মাথায় পানেনকা শটে বাংলাদেশকে এনে দিলেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা।
বল জালে প্রবেশ করে রোনান ছুটে গেলেন সমর্থকদের কাছে। মাহিন তখন মাটিতে লুটিয়ে। যেন শাপমোচনই হলো তাঁর। গত বছর সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এই ভারতের বিপক্ষেই এক হাস্যকর ভুল করে গোল হজম করেন তিনি। পরে অবশ্য টাইব্রেকারে একটি শট ঠেকান। তবে জয় আটকাতে পারেননি।
গতকাল ফাইনালে বাংলাদেশের জাল অক্ষত রেখেছেন মাহিন। মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছিল সমানে। ভারতের মতো বাংলাদেশও পায়নি গোলের দেখা। ৯০ মিনিট শেষে খেলা তাই গড়ায় টাইব্রেকারে।
ভাগ্যের খেলায় ভারতের হয়ে প্রথম শট নিতে আসা রিশি সিংকে গোলবঞ্চিত করে বাংলাদেশের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেন মাহিন। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকান এই গোলরক্ষক। বাংলাদেশের ডাগআউট তখন নির্ভার। কিন্তু চিন্তার ছাপ বয়ে যায় চতুর্থ শট নিতে আসা স্যামুয়েল রাকসাম মিস করলে।
মাহিনের সামনে তাই আবারও চলে আসে চাপ। এই চাপ দূর করতে অবশ্য কিছুই করা লাগল না তাঁর। কারণ, ভারতের ওমাং দোদুম লক্ষ্যেই শট নিতে পারেননি। মাহিনের তাই কায়মনে তাকিয়ে থাকেন রোনানের দিকে।
প্রথম শটটি ঠেকানোর পর মাহিনের অনুভূতি, ‘অসাধারণ! মনে করছিলাম যে ২০ কোটি মানুষের স্বপ্নকে আমি রক্ষা করতে পারছি।’ মাহিনের মতো গত বছর সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেন মুরশেদ আলী। টাইব্রেকারে হারের পর কান্না ধরে রাখতে পারেননি। এবার অবশ্য ভাগ্য বদলেছে। ভারত জুজু কেটেছে তাঁর, ‘খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম (ফাইনাল নিয়ে)! আর কী বলব, বলার মতো ভাষা নেই। আমরা পাঁচবার (চেষ্টার) পর ইনশা আল্লাহ এবার চ্যাম্পিয়ন। ভামোস!’
অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী শিরোপা উৎসর্গ করেন চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া আশিকুর রহমানকে। জয়ের পর তিনি বলেন, ‘ফাইনাল জেতা মানে আমি চার বছর ধরে এটা চেয়েছি। আল্লাহ আমাদের দিয়েছে আজ (গতকাল)। কিন্তু আমি একজনকে খুবই মিস করছি, সেটা আমার বন্ধু আশিক। ও থাকলে আরও বেশি আনন্দ হতো। ও নাই, তারপরও আমি ওকে এই ট্রফিটা উৎসর্গ করতে চাই।’
গ্যালারি বাংলাদেশি সমর্থকেরা গলা ফাটিয়েছেন অনবরত। মিঠু তাই ভুললেন না ধন্যবাদ দিতে, ‘সমর্থকেরা সাপোর্ট দিয়েছে বলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। পরেরবার যখনই আসবে, আরও সমর্থক যেন দেখতে পাই এবং আরও যেন চ্যাম্পিয়ন হতে পারি।’
কে পেলেন কোন পুরস্কার
সেরা গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন (বাংলাদেশ)
সর্বোচ্চ গোলদাতা: ইলান ইমরান ও ওমাং দোদুম (৩ গোল)।
টুর্নামেন্টসেরা: ওমাং দোদুম (ভারত)।
ফেয়ার প্লে: মালদ্বীপ।