ঘড়ির কাঁটা তখনো সন্ধ্যা ৭টা ছোঁয়নি যখন কিংস অ্যারেনায় বল গড়িয়েছিল। কিন্তু সেই ম্যাচ যখন শেষ হলো, ফ্লাডলাইটের আলোয় আলোকিত তখন মাঠের চারপাশ। মাঝে কেটে গেছে অবিশ্বাস্য ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট! মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে যেখানে বড় হয়ে উঠল রেফারিং বিতর্ক, নিয়ম নিয়ে বাদানুবাদ আর ১ ঘণ্টা ১২ মিনিটের দীর্ঘ অচলাবস্থা। অথচ ম্যাচ শুরু বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে।
ঘটনাবহুল এই নাটকের শেষে পুলিশ এফসির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। আর কিংসের এই হোঁচটে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে লিগ টেবিলের দুইয়ে থাকা আবাহনী এখন শিরোপা লড়াইয়ে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুক্রবার নিজেদের মাঠে শুরুটা রাজকীয়ই ছিল কিংসের। ৩৫ মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে কিংসকে লিড এনে দেন দোরিয়েলতন গোমেস। ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে গিয়েও দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারায় কিংস। ৫৩ মিনিটে পুলিশের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পাওলো হেনরিক সমতা ফেরান। গোল উদযাপনে জার্সি খুলে প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেন তিনি।
নাটকের শুরু এর ১০ মিনিট পর। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে ধাক্কা দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন হেনরিক। কিন্তু গোলমাল বাঁধে ১০ জনের পুলিশের বদলি খেলোয়াড় নামানো নিয়ে। একজন স্থানীয় ফুটবলারের বদলে বিদেশি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি তোলে কিংস। বাইলজ আর নিয়মের মারপ্যাঁচে পুলিশের কর্তারা মাঠ থেকে খেলোয়াড় তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিলে থমকে যায় খেলা।
ফুটবল লিগের বাইলজের ২৭.১ ধারায়, একজন বিদেশি খেলোয়াড়কে শুধু মাত্র বিদেশি খেলোয়াড় দিয়েই বদলি করা যাবে। মাঠে থাকতে পারবেন তিন বিদেশি খেলোয়াড়। পুলিশের আপত্তি ছিল, গত সপ্তাহেই তাদের বিপক্ষে স্থানীয় খেলোয়াড়কে বদলি করে বিদেশি ফুটবলার নামায় পিডব্লিউডি। তাহলে পুলিশ কেন পারবে না। সেই উত্তরের জবাব দিতেই সময় লাগল ১ঘণ্টা ১২ মিনিট।
ফের বল গড়ালে ২৭ মিনিট ইনজুরি সময় দেন রেফারি। অতিরিক্ত সময়ে রিমন হোসেন লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় কিংসও। শেষ মুহূর্তে তপুর হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় চ্যাম্পিয়নদের। ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট কিংসের, আর সমান ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী। আজ পিডব্লউডিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। দিনের আরেক ম্যাচে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয় পায় ফর্টিস এফসি। একাই চার গোল করেন পা ওমর বাবু।