নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। পরশু র্যাঙ্কিংয়ে ৯৫ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনের কাছে ২-০ গোলে হারলেও খেলায় ছিল নান্দনিকতা ও সাহসিকতার মিশেল। কাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় আরও এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হবে পিটার বাটলারের দল। সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে ঋতুপর্ণা-আফঈদাদের প্রতিপক্ষ র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা উত্তর কোরিয়া। যারা বাংলাদেশের (১১২) চেয়ে ১০৩ ধাপ এগিয়ে।
বাংলাদেশ নিয়ে যেমন ধারণা ছিল কোরিয়ার, সেই ভুল ভেঙেছে চীন ম্যাচের পরপরই। আজ সংবাদ সম্মেলনে কোরিয়ার প্রধান কোচ রি সং হো বলেন, ‘আমি এখানে এসে চীন-বাংলাদেশ ম্যাচটি দেখেছি এবং আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার গতি ও দক্ষতা বেশ তীক্ষ্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, তারা বেশ দ্রুতগতির দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়।’
নিজেদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কোরিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার রাস্তাও খুব একটা কঠিন নয় তাদের জন্য। ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন দলটির কোচ, ’গত কয়েক বছর আগের কথা চিন্তা করলে দেখা যায়, পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান বেশ নিচে ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। আপনি ২০১৯ সালের ম্যাচের কথা বললেন, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, (চীনের বিপক্ষে) ম্যাচ দেখে যা বুঝেছি, বাংলাদেশ দল অনেক বড় এবং দ্রুত উন্নতি করেছে। এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।’
চীনের বিপক্ষে অল্পের জন্য গোল পাননি ঋতুপর্ণা চাকমা। তাঁর দূরপাল্লার শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন চীনা গোলরক্ষক। তাই ঋতুপর্ণাকে নিয়ে বেশ সতর্কই থাকতে হচ্ছে কোরিয়ার কোচকে, ‘আমি তাদের আক্রমণভাগের তিন জন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়কে (ঋতুপর্ণা) নিয়ে আমি সতর্ক, যে বাঁ প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। আক্রমণ এবং রক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। তাই আগামীকালের ম্যাচে এই খেলোয়াড়দের রুখতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’