বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কিংবা বাছাইপর্বে খেলা ফুটবলারদের ক্লাবগুলোর জন্য আর্থিক প্রণোদনা বাড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রামের তহবিল বাড়িয়ে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফিফা এই আর্থিক প্রণোদনা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় এবারের বিশ্বকাপ থেকে তাদের মোট আয় ৫৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ ছাড়া ২০২৩-২০২৬ চক্রে, যেখানে ২০২৫ সালের সম্প্রসারিত ক্লাব বিশ্বকাপও অন্তর্ভুক্ত। ফিফার রাজস্ব আগের চক্রের তুলনায় ৭২ শতাংশ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে ১০৪-এ উন্নীত হয়েছে এবং টুর্নামেন্ট চলবে ৩৯ দিন। যেখানে ২০২২ বিশ্বকাপ হয়েছিল ২৯ দিনে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ফিফার ঘোষিত ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল তিনটি ভাগে বণ্টন করা হবে।
এর মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের জন্য। ফিফার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড় যত দিন থাকবেন, তার ক্লাব প্রতিদিনের জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার ডলার পাবে। তবে টুর্নামেন্ট শেষে চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারণ করা হবে। ফিফা জানিয়েছে, অর্থ প্রদানের হিসাব করা হবে ‘প্রতি খেলোয়াড়, প্রতি দিন’ ভিত্তিতে। এতে কোনো খেলোয়াড়ের চূড়ান্ত দলে অন্তর্ভুক্তি এবং টুর্নামেন্টে তার অংশগ্রহণের সময়কাল বিবেচনা করা হবে।
বাছাইপর্বের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার। ফিফার হিসাবে, ৯০৫টি বাছাই ম্যাচ এবং স্বাগতিক তিন দেশের জন্য নির্ধারিত ১০টি প্রীতি ম্যাচে ম্যাচের দিনের দলে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড়ের বিপরীতে ২ হাজার ৩৬২ ডলার করে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো স্বাগতিক হওয়ায় তাদের বাছাইপর্ব খেলতে হয়নি, তাই তাদের জন্য প্রীতি ম্যাচগুলোকে এই হিসাবের আওতায় আনা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫ মিলিয়ন ডলার প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে। এই খাতে কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে তা বিশ্বব্যাপী ক্লাব ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
এই উদ্যোগকে সম্প্রসারিত বিশ্বকাপের অন্যতম সুফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘সম্প্রসারিত ফিফা বিশ্বকাপের এটি আরেকটি সুফল। এর মাধ্যমে পুরো ফুটবল ব্যবস্থার অংশীদারদের, বিশেষ করে সেই ক্লাবগুলোকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে, যারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে আসা খেলোয়াড়দের গড়ে তোলে এবং তাদের সুযোগ করে দেয়।’