টরন্টোতে আজ হয়তো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, দিয়োগো জোতা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতেন। যে রোনালদো এবারই শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন, তাঁর কাছে এবার প্রতিটি জয়ই তো গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁর এই ‘লাস্ট ড্যান্সের’ সময় তো থাকতে পারলেন না দিয়োগো জোতা। থাকবেন কী করে! গত বছরই তো তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আজ ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে পর্তুগাল উঠেছে শেষ ষোলোতে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর রোনালদো পরেছেন ২১ নম্বর জার্সি। যে ২১ নম্বর জার্সি পরে পর্তুগালের হয়ে খেলতেন জোতা। জয়ের পর তাঁর চোখ বেয়ে পড়ছিল পানি। আকাশের দিকে তাকিয়ে স্মরণ করলেন জোতাকে, যিনি গত বছর দূর আকাশের তারা হয়ে গেছেন।
ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার পর রোনালদো কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। অবসর নয়, কথ বলার সময় বারবার মনে পড়ছিল প্রয়াত জোতার কথা। রোনালদো বলেন, ‘আজকের দিনটি বিশেষ। কারণ, আমরা জানি জোতা ওপরে থেকে আমাদের পথ আলোকিত করছে। এটি সত্যিই একটি বিশেষ মুহূর্ত। সবাই অনুভব করেছি যে সে আমাদের সঙ্গেই ছিল। আর তাই আজকের এই জয়টাই ছিল তাঁকে সর্বোত্তমভাবে সম্মান জানানোর সবচেয়ে উপযুক্ত উপায়।’
গত বছরের ৩ জুলাই পশ্চিম স্পেনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় জোতা ও তাঁর বড় ভাই আন্দ্রে সিলভা চলে যান না ফেরার দেশে। ঠিক তার পরের বছর আজ পর্তুগাল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে জয় পেল ত্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। বাংলাদেশে অবশ্য ৩ জুলাই হলেও টরন্টোর হিসাবে ম্যাচটা হয়েছে ২ জুলাই। ম্যাচ শেষে রোনালদো যখন আকাশের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সতীর্থদেরও মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। চোখের পানি সংবরণ করে জোতার স্মরণে হাততালি দিলেন তাঁরা।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশে ২-১ গোলের জয়টা রোনালদোদের কাছে জোতার জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকল। ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার পর রোনালদো বলেন, ‘আমরা ম্যাচের আগেই বিষয়টি জানতাম। এটি ছিল খুবই বিশেষ একটি মুহূর্ত। জীবন কতটা কাকতালীয় হতে পারে, আজ আমরা দলের সবাই আলোচনা করেছি। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও রোনালদো পোস্ট করেছেন জোতাকে নিয়ে। পর্তুগালের খেলোয়াড় এবং সাপোর্টিং স্টাফদের সঙ্গে ছবিতে দেখা গেছে, রোনালদো সবার মাঝে ২১ নম্বর জার্সি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের জন্য জিতেছি দিয়োগো এবং পর্তুগাল। চলো এগিয়ে যাই।’
মাত্র ২৮ বছর বয়সে জোতার জীবনপ্রদীপ নিভে যায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায়। অথচ ঠিক তার কদিন আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমের নেশনস লিগ জিতেছিলেন তিনি। পর্তুগালের হয়ে এর আগেও নেশনস লিগ (২০১৮-১৯ ) জিতেছিলেন জোতা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই শিরোপাজয়ী জোতা ক্লাব ফুটবলেও শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৪৯ ম্যাচে ১৪ গোল করেছিলেন জোতা। এবার পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযানে তিনি তাই না থেকেও আছেন। রোনালদো ও পর্তুগালের ফুটবলপ্রেমীরা স্মরণ করছেন গত বছর না ফেরার দেশে চলে যাওয়া জোতাকে।