ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নায়ক হওয়ার জন্য গনসালো রামোসের হাতে সময় খুব বেশি ছিল না। একে তো বদলি হিসেবে নেমেছেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ৮১ মিনিটে তুলে নেওয়ার পর ম্যাচ তখন ১-১ সমতায়। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর আভাস মিলছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের দারুণ এক চিপ থেকে অসাধারণ গ্ল্যান্সিং বল জালে জড়িয়ে দেন রামোস। তাঁর সেই গোলেই ২-১ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
শেষ মুহূর্তের সেই গোলের পর আলোচনা কেন্দ্র হয়ে ওঠেন রামোস। গোল করার সামর্থ্য নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এটা বিশেষ একটি অনুভূতি, কারণ এটি বিশেষ একটি প্রতিযোগিতা। তবে যাঁরা আমাকে চেনেন, তাঁরা জানেন—ম্যাচের শেষ দিকে যখন গোলের প্রয়োজন হয়, আমি তখন থাকি। এটা প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার নয়। তাই শেষ মুহূর্তে যখনই একটি গোলের দরকার হবে, তখন গনসালো রামোসকে ডাকতে পারেন।’
রামোসের মতে, এই জয় শুধু নকআউট পর্বের বাধা পেরোনোর নয়, বরং পুরো দলের মানসিক দৃঢ়তারও প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে প্রতিযোগিতার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দল আরও পরিণত হচ্ছে, আর সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। বিশ্বকাপ হয়তো সময়ের হিসেবে ছোট একটি টুর্নামেন্ট, কিন্তু আমাদের জন্য তা মোটেও ছোট নয়। এর পেছনে রয়েছে অনেক পরিশ্রম, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন এবং একসঙ্গে অনেক সময় দেওয়া। মনে হচ্ছে যেন অনেক দিন ধরেই এখানে আছি। সেই অভিজ্ঞতাও আমাদের শক্তি জুগিয়েছে। আজ দেখিয়েছি দল হিসেবে আমরা কতটা শক্তিশালী। এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই হয় জিততে হবে, নয়তো বিদায়। আজ আমরা সেই শক্তিরই প্রমাণ দিয়েছি।’
নিজেদের লড়াইয়ের মানসিকতাও তুলে ধরেছেন রামোস, ‘পর্তুগাল মানেই আমাদের পরিচয়। আমরা সব সময় জয়ের জন্য খেলি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখি। কারণ, আমরা কখনোই সত্যিকার অর্থে শেষ হয়ে যাই না।’