নিউইয়র্ক শহরে ফুটবল বিশ্বকাপ কাভার করতে এসেও ক্রিকেট পিছু ছাড়েনি! সাকিব আল হাসান যে শহরে গত দুই বছর টানা থাকছেন, সেখানে ক্রিকেট তো এসে পড়বেই বাংলাদেশ থেকে আগত ক্রীড়া সাংবাদিকের কাছে। নিউইয়র্কে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ হতেই আমন্ত্রণ জানালেন তাঁর লংআইল্যান্ডের বাসার দিকে যাওয়ার।
স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লংআইল্যান্ডের জেরিকোর এক কফি শপে দেখা সাকিবের সঙ্গে। আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারে আগ্রহ দেখালেন না। টানা দুই ঘণ্টা শুধু আড্ডাই হলো। সাকিবের সঙ্গে সেই আড্ডায় ফুটবল বিশ্বকাপ, ক্রিকেট, নিজের ক্যারিয়ার, বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স, জাতীয় দলের সতীর্থরা, ক্রিকেট বোর্ডের নতুন পরিচালনা পর্ষদ, আগের দুই সভাপতি, দেশ, রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের প্রবাসজীবন—কী এল না!
নিউইয়র্কের যেখানে সাকিব তাঁর পরিবার নিয়ে থাকেন, জায়গাটা একেবারেই কোলাহলমুক্ত, নীরব। নিউইয়র্ক শহরের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে থাকতেই হয়তো এমন নিরিবিলি, ছবির মতো জায়গা বাসস্থান হিসেবে বেছে নেওয়া। কফি শপে আগেই এসেছিলেন। দেখা হতেই অর্ডার দিলেন। দোকানের নারী বিক্রয়কর্মী জানতে চাইলেন, কী নামে অর্ডার হবে। সাকিব বললেন, ‘হাসান’। অর্ডার প্রস্তুত শেষে মেয়েটি মিহি কণ্ঠে ডাকলেন, ‘মিস্টার হাসান, ইয়োর অর্ডার ইজ রেডি।’ সাকিব কফি অর্ডার দিচ্ছেন আর বিক্রয়কর্মীর কাছে তাঁর নামটি একেবারেই অচেনা—বাংলাদেশ এ তো এক অকল্পনীয় দৃশ্য। সাকিব এ কারণেই তো বসবাসের জন্য এমন একটি জায়গা বেছে নিয়েছেন, যেখানে তাঁর বিপুল তারকাখ্যাতি একেবারেই প্রভাবিত করবে না স্বাভাবিক জীবনযাপনে।
গত দুই বছরের টানা প্রবাসজীবনে পরিবারকে পূর্ণ সময় দিতে পারছেন। ‘ভাই, এখানে সব কাজ নিজেরই করতে হয়। আগের চেয়ে তাই আমার ব্যস্ততা যেন আরও বেড়েছে’—নিউইয়র্কের যাপিত জীবন এভাবেই তুলে ধরেন সাকিব। দেশে ফেরা, রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে আবার খেলার আশা—সেসব আলাপ না হয় আড্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাক। তবে দেশের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয় খুব বেশি অবাক করেনি সাকিবকে। বললেন, ‘আমরা তো ২০১৫ সাল থেকে ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে দারুণ একটা দল। গত ১০ বছরে শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি সিরিজ বাদে বেশির ভাগ ওয়ানডে সিরিজই জিতেছি।’ মিরপুরে নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ের কাছে শক্তিশালী দল কেন খাবি খাচ্ছে, তার একটা ক্রিকেটীয় ব্যাখ্যা দিলেন সাকিব, ‘মিরপুরের যে উইকেট, সেখানে ১৫০ কিলোমিটারের গতির বল খুবই ভয়ংকর। কারণ, আপনি তো জানেন না কোন বল কোন উচ্চতায় উঠবে।’
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে মুগ্ধ সাকিব। তবে বেশি কিছু বলতে চাইলেন না ক্রিকেট বোর্ডের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে। বললেন, ‘এসবে খুব একটা আগ্রহ নেই। আগ্রহ শুধু খেলা নিয়ে। ওটা নিয়েই থাকতে চাই।’
জিমনেসিয়ামে যাওয়ার তাড়া থাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার আড্ডাটা শেষ হলো সন্ধ্যার আগেই। যাওয়ার আগে জানিয়ে গেলেন ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের পরিকল্পনা। টিকিট জোগাড় করতে পারলে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের ম্যাচ দেখবেন। ম্যাচের দিন পরবেন ব্রাজিলের জার্সি। মুখে একপ্রস্থ হাসি ঝুলিয়ে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির বড় সমর্থক সাকিব বললেন, ‘ব্রাজিলের ম্যাচ দেখব। জার্সিও কিনব ব্রাজিলের। পোস্ট দেব, পল্টি!’
সাকিব তাঁর সাদা বিএমডব্লিউটা নিয়ে রওনা দিলেন জিমের দিকে। শরীর ফিট রাখছেন, স্বপ্নও দেখছেন—বাংলাদেশের হয়ে খেলার আশার প্রদীপটা জ্বালিয়ে রাখছেন সহজাত মনের শক্তি দিয়ে।