ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে গিয়েই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল রাতে সেরাফাল্লে স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে টমাস ডুলির দল। তবে মাঠের এই সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ কোচের নজর কেড়েছে গ্যালারির চিত্র। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে ডুলি ভবিষ্যতে এই মহাদেশে আরও ম্যাচ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ার বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ডুলি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সমর্থকদের বিপুল আগ্রহই তাঁকে ইউরোপে নিয়মিত ম্যাচ খেলার কথা ভাবাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই ভালোবাসাই আমাদের বারবার ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করে। আমরা অন্য কোনো দলের খোঁজ করছি, যাতে আবারও ইউরোপে এসে ম্যাচ খেলতে পারি। কারণ এখানকার অভিজ্ঞতা বেশ চমৎকার ছিল। আমরা জিতব, আমরা অবশ্যই জিতব! আমরা তাদের জন্য লড়াই করি, আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করি।’
বাংলাদেশের কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ার বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ডুলি।ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডুলি জানান, সমর্থকদের বিপুল আগ্রহই তাঁকে ইউরোপে নিয়মিত ম্যাচ খেলার কথা ভাবাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই ভালোবাসাই আমাদের বারবার ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করে। আমরা অন্য কোনো দলের খোঁজ করছি, যাতে আবারও ইউরোপে এসে ম্যাচ খেলতে পারি। কারণ এখানকার অভিজ্ঞতা বেশ চমৎকার ছিল। আমরা জিতব, আমরা অবশ্যই জিতব! আমরা তাদের জন্য লড়াই করি, আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করি।’
সান মারিনোর মাঠে খেলা হলেও গ্যালারিতে বাংলাদেশি সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ বিষয়ে ডুলি বলেন, ‘সমর্থকেরা প্যারিস থেকেও এখানে খেলা দেখতে এসেছেন। ইউরোপের মাটিতে এটাই আমাদের প্রথম ম্যাচ। ম্যাচের আগে আমরা খেলোয়াড়দের বলেছিলাম—দেখো ছেলেরা, ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪ হাজার মানুষ শুধু তোমাদের খেলা দেখতে এখানে এসেছে। চলো ওদের মুখে হাসি ফোটাই। ওদের জন্য খেলি এবং একটি ভালো ফলাফল নিয়ে আসি, যাতে ওরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারে।’
দলের প্রতি মানুষের এই আবেগ কোচকে মুগ্ধ করেছে দেশ ছাড়ার আগেই। সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে ডুলি বলেন, ‘বাংলাদেশে যাওয়ার পর আমি যে উন্মাদনা দেখেছি, তা অভাবনীয়। আমরা যখন দেশ ছাড়ি, তখন ২১১ র্যাঙ্কিংয়ের একটি দলের বিপক্ষে আমাদের একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল। স্টেডিয়াম ছেড়ে যখন আমরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হলাম, বাস থেকে নামার পর দেখলাম প্রায় ২০০ মানুষ ক্যামেরা হাতে আমাদের ভিডিও করছে, দলের ছবি তুলছে। সত্যিই অসাধারণ!’
বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি এমন আবেগের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন কোচ। তাঁর মতে, ‘বাংলাদেশে আমাদের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছে। আর তারা সবাই ফুটবল সম্পর্কে বোঝে—তারা প্রত্যেকেই একেকজন কোচ! তাদের এই যে ফুটবল নিয়ে আবেগ ও উন্মাদনা, এর জন্য তাদের শুধু একটু সাফল্য প্রয়োজন। ম্যাচ জেতার পর তারা কতটা আনন্দিত ছিল, তা খেলা শেষেই দেখতে পেয়েছেন। এই জয় মূলত সমর্থকদের জন্য, আর এটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে।’
বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণাও আছে ডুলির। তবু সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান তিনি, ‘সমর্থকদের এই আবেগ খেলোয়াড়দের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। আমরা হয়তো জার্মানি বা ইতালি নই—অবশ্য ইতালি তো কোয়ালিফাই-ই করতে পারেনি—আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারে নেই। তবে আমাদের সাধ্যের মধ্যে যা কিছু আছে, তা দিয়ে আমরা এই মানুষগুলোকে খুশি করার চেষ্টা করি। আমার মনে হয়, এটি একটি দারুণ সূচনা।’