বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে বিরোধিতা আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার কনকাকাফের পর এবার একই অবস্থান নিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কুয়ালালামপুরভিত্তিক এএফসি জানায়, ফিফার প্রস্তাব নিয়ে উয়েফা ও কনকাকাফ যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তাদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি রয়েছে এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির।
এএফসির দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফিফার এই প্রস্তাব নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে এএফসি উয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের বাস্তব সম্ভাবনা এখন প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা চিন্তা করেন, তাদের সবার জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়।’
এএফসির এই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা আগেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে ফিফার প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক এই সভাপতি।
কর্দেইরো বলেন, ‘ফিফা সভাপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, সাবেক ব্যাংকার এবং আজীবন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, যখন ফিফা বিশ্বকাপের মালিকানার একটি অংশ বিক্রির কথা বিবেচনা করছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই—এই প্রস্তাব তৈরির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছি। এটি ফিফার সদস্য সংস্থাগুলোর জন্য খারাপ চুক্তি, ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদে এই খেলাটির ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর।’
এদিকে বিরোধিতা বাড়লেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ফিফা। এই ইস্যুতে সব সদস্য সংস্থার মতামত নিতে চায় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফিফার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যা ফিফা কখনোই বিবেচনা করবে।’
বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সংবাদমাধ্যমকেও দায়ী করেছে ফিফা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা প্রকাশ্যে উত্থাপিত মতামত ও উদ্বেগকে সম্মান করি এবং উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরামর্শ প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা এই পরামর্শ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাব, যাতে প্রতিটি সদস্য সংস্থা তথ্যভিত্তিকভাবে নিজেদের ভোট দিতে পারে।’