চিরবিদায় লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। গতকাল তাঁকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন মেসি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মেসির জন্মশহর রোসারিওর বেসরকারি সমাধিস্থল এল প্রাদোতে হয়েছে বাবা হোর্হের শেষকৃত্য।
বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে মেসি পরশু রাতে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে রোসারিও পৌঁছান। জন্মশহরে পৌঁছে তাঁর মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং ভাইবোন মাতিয়াস, রদ্রিগো ও মারিয়া সলের সঙ্গে শেষকৃত্যে যোগ দেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী ফুটবলার। নিকট আত্মীয়স্বজনদের উপস্থিতিতে এল প্রাদোতে হয়েছে মেসির বাবার শেষকৃত্য। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে হয়েছে এই অনুষ্ঠান। পরিবারের প্রাইভেসি নিশ্চিত করতে দুপুর থেকে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় এল প্রাদো।
মেসির প্রতি সমর্থন জানাতে কয়েক জন ভক্ত রোসারিও বিমানবন্দর ও সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন বার্তা লিখে রেখে গিয়েছেন। এল প্রাদোর বেড়ায় ঝোলানো একটি বার্তায় লেখা ছিল: ‘শক্ত থাকুন, লিও। আমরা আপনাকে ভালোবাসি।’ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং কোচিং স্টাফের সদস্যরাও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুলের মালা পাঠিয়েছেন।
অনেক দিন ধরেই মেসির বাবা হোর্হে মেসি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় সকালে ৬৮ বছর বয়সে বিশ্বজয়ী ফুটবলারের বাবা মারা গিয়েছেন। মেসির দীর্ঘদিনের এজেন্ট ছিলেন তাঁর বাবা। ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত ও আলোচনাতেও যুক্ত ছিলেন হোর্হে।এএফএর নির্দেশে সপ্তাহের শেষে সব পেশাদার ও যুব পর্যায়ের ম্যাচ শুরুর আগে হোর্হে মেসির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং রেফারিদেরও কালো আর্মব্যান্ড পরার নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৪ আগস্ট পর্যন্ত শোকের প্রতীক হিসেবে এএফএর সকল স্থাপনায় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
রোসারিওর আবানেরাদো গ্রানদোলি ক্লাব—যেখানে লিওনেল মেসি মাত্র ৪ বছর বয়সে ফুটবল খেলা শুরু করেছিলেন—সেই ক্লাবটি তাদের সামাজিক মাধ্যমে মেসি, তাঁর বাবা এবং অন্য শিশুদের একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করে একটি আবেগঘন বার্তা দেয়। ক্লাবটি লিখেছে: ‘হোর্হে (মেসি) আমাদের ইতিহাসের অংশ ছিলেন এবং আমাদের ক্লাবে একজন কোচও ছিলেন। এখানে তিনি সেই ছোট্ট লিওনেলের ফুটবলের প্রথম পদক্ষেপগুলোর সঙ্গী হয়েছিলেন, যিনি পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম লিখেছে।’
এ বছর সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না মেসির। সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছিলেন। তবে টানা দুইবার শিরোপা জয়ের কাছাকাছি গিয়ে চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার আক্ষেপে গত ১৯ জুলাই তাঁর দুই চোখ বেয়ে ঝরছিল পানি। স্পেনের কাছে হারের পর অনেক দিন জনসমক্ষেই আসেননি। বিশ্বকাপের সময়ই তাঁর বাবার মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের এক উপস্থাপিকার চাকরিও চলে গিয়েছিল। মেসিকে গড়ে তোলার কারিগর অবশেষে শনিবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে।