দেশের ক্লাবগুলোকে রাজনীতিকরণ ও দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ ধানমন্ডিতে আবাহনী লিমিটেড পরিদর্শনে গিয়ে বলেছেন এমনটাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ক্লাবটিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে ক্রীড়া কার্যক্রম পুরোদমে চালুর বিষয়ে ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি।
আবাহনী ও মোহামেডানকে দেশের ফুটবলের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে আবাহনী ক্লাব এবং বাংলাদেশের অন্যান্য ক্লাবগুলো রাজনীতির বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। মোহামেডান–আবাহনী এবং বাংলাদেশের ফুটবলের যে ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য যাতে কখনোই কোনো কারণে রাজনৈতিক কারণে ভবিষ্যতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়গুলো আমরা আজকে ইতিমধ্যে আমি আলোচনা করেছি।’
অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রীর, ‘বিগত সময় কী হয়েছে সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করব না, তবে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। যাতে সামনের দিকে আর কখনো কোনো ভুল না হয় এবং আবাহনী ক্লাব স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।’
খেলোয়াড়দের কল্যাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা চাই যে ক্লাব যদি বেঁচে থাকে তাহলেই কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা বেঁচে থাকবে। কারণ ক্লাব যদি ঠিক না থাকে তাহলে কিন্তু খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তৃণমূলের খেলাধুলা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২ মে থেকে ৬৪ জেলায় কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস; কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া ক্লাবগুলোর আর্থিক অস্বচ্ছলতা দূর করতে করপোরেট হাউসগুলোর সহযোগিতা এবং নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, ‘ভবিষ্যতে কোনো ক্লাব যাতে আর কোনো রাজনীতিকরণ করা না হয়, ক্লাবকে যাতে আবার দলীয়ভাবে কোনো ব্যবহার করা না হয়, এ বিষয়ে আমরা সবাই সতর্ক থাকব। এবং আমার সাংবাদিক ভাইদেরও আমি সার্বিক সহযোগিতা চাই ইনশাল্লাহ।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্লাব পরিদর্শনকালে আবাহনী ও মোহামেডান ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল উপস্থিত ছিলেন। ক্লাবটির বর্তমান ফুটবলাররা ফুল দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করে নেন এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মানসূচক জার্সি উপহার দেওয়া হয়।