বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে এখনো আলোচনা শেষ হয়নি। ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার ক্ষমা প্রার্থনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমো। একই সঙ্গে সাবেক ডিফেন্ডারকে মিথ্যাবাদী বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত ১৯ জুলাই নিউজার্সি স্টেডিয়ামে হওয়া বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের শিরোপা জয়ের পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, আয়ালা দুই হাত দিয়ে ওলমোর গলায় জোরে ধাক্কা দেন। ঘটনাটি নিয়ে পরে ক্ষমা চাইলেও আয়ালা দাবি করেছিলেন, ওলমোর একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই এমনটি করেছিলেন।
তবে কাতালান সংবাদপত্র দিওয়ারি দে তেরাসাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আয়ালার সেই ব্যাখ্যা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন ওলমো। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি ক্ষমা চাওয়ার পরও একটি ঘুষির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলে সেটি কোনো মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া ছিল, তাহলে সে আসলে দুঃখিত নয়। কারণ সে মিথ্যা বলছে। আমি তাকে কিছুই বলিনি, তাই তার ক্ষমা চাওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই।’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওলমো আরও বলেন, ‘আমাদের প্রকৃত পরিচয় ভুলে নয়, বরং সেই ভুলকে কতটা বিনয়, সততা ও মর্যাদার সঙ্গে স্বীকার করতে পারি—সেটিতেই প্রকাশ পায়।’
ফুটবলারদের সামাজিক দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ওলমোর, ‘যখন আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং সব সমর্থক ম্যাচটি দেখবে, তখন আমি চাই তারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আমাদের জয় এবং সর্বোপরি আমাদের আচরণ নিয়ে গর্ব করুক। কারণ ফুটবলের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে আমরা খেলোয়াড়রা শিশু ও নতুন প্রজন্মের কাছে উদাহরণ। আর সেই সঙ্গে আসে বিশাল একটি দায়িত্ব।’
এর আগে ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিও-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আয়ালা দুঃখ প্রকাশ করলেও ঘুষি মারার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি দুঃখিত। আমার অবস্থানে থেকে আমি কোনো অনুভূতি বা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যা-ই আসুক না কেন, সেটাকে আমার মানসিক অবস্থা বা আচরণে প্রভাব ফেলতে দিতে পারি না।’
সাবেক ফুটবলার আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয়, এখানেই একটি রেখা টেনে বিষয়টি শেষ করে দেওয়া উচিত। এটা ঘুষির চেয়ে ধাক্কাই বেশি ছিল। যেভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে, সেটা ঘুষি ছিল না। ও যা বলেছিল, সেটার প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটি ঘটেছিল, এর বেশি কিছু নয়। ওর সঙ্গে আবার দেখা হলে অবশ্যই আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইব।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিশেষ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেসসহ দলের কয়েকজন সদস্য স্পেনের একাধিক খেলোয়াড়ের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। আয়ালা-ওলমো বিতর্ক সেই ঘটনারই নতুন অধ্যায় হিসেবে সামনে এলো।