চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চ, আর প্রতিপক্ষ যদি হয় রিয়াল মাদ্রিদ; তবে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের ‘আন্ডারডগ’ বলা অনেকটা ধৃষ্টতাই। তবু বলতে হচ্ছে রিয়ালের স্কোয়াড দেখে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম এবং রদ্রিগোর অনুপস্থিতিতে আলভারো আরবেলোয়ার দল যেন এক খণ্ডিত শক্তির নাম। এমনই অবস্থায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে তাদের লড়তে হবে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে।
রক্ষণ থেকে আক্রমণ; রিয়ালের সবখানেই ক্ষতের চিহ্ন। এদের মিলিতাও এবং দানি সেবায়োস তো বটেই, এমনকি ডেভিড আলাবাকে নিয়েও রয়েছে চরম সংশয়। বিপরীতে ম্যানচেস্টার সিটি শিবিরে সুবাতাস। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ফিরেছেন মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রদ্রি। দলে যোগ দিয়েছেন আন্তোয়ান সেমেনিয়ো ও মার্ক গেহির মতো ফুটবলাররা। পেপ গার্দিওলা কৌশলগতভাবেও এগিয়ে; নিউক্যাসলের বিপক্ষে এফএ কাপ ম্যাচে আর্লিং হালান্ডকে বিশ্রাম দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য এখন শুধুই রিয়াল।
জাবি আলোনসোর বিদায়ের পর আরবেলোয়া যখন দায়িত্ব নিলেন, তখন প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু মাঠের খেলায় এর প্রতিফলন এখনো ঘটেনি। লা লিগায় এই ভালো এই খারাপ। তবে আরবেলোয়ার তুরুপের তাস এখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বেনফিকার বিপক্ষে প্লে-অফ রাউন্ডে রিয়ালকে টেনে তুলেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ানই।
আত্মবিশ্বাস তাই হারাচ্ছেন না আরবেলোয়া, ‘মাঠে থাকাকালে সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ফুটবলার। বর্তমানে দলে অনেক খেলোয়াড় চোটের কবলে...এই পরিস্থিতিতে তার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সে আমাদের আক্রমণভাগের মূল স্তম্ভ এবং সিটিকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করতে হলে তাকে আমাদের প্রয়োজন।’
ভঙ্গুর হলেও সিটির চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে চান আরবেলোয়া, ‘আমরা রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমরা কখনোই নিজেদের কারও চেয়ে ছোট বা দুর্বল ভাবি না। আগামীকাল (আজ) আমাদের সামনে এক দুর্দান্ত প্রতিপক্ষ, যাদের সম্পর্কে আমরা সবাই জানি এবং তাদের মোকাবিলা করা কতটা কঠিন, সেটাও আমাদের জানা... তবে আমরা তাদের চোখের দিকে তাকিয়েই লড়াই করব।’
পেপ গার্দিওলা যেন রিয়ালের চিরন্তন প্রতিপক্ষ। লিগ পর্বে বার্নাব্যুতে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছিল সিটি। যেখানে রদ্রিগোর করা শুরুর গোলটি শোধ করে উল্টো লিড এনে দিয়েছিলেন নিকো ও’রিলি এবং আর্লিং হালান্ড। অতীত নিয়ে অবশ্য ভাবতে চান না গার্দিওলা, ‘ফেব্রুয়ারি শেষ, এখন মার্চ মাস। সবকিছুই আসলে মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। ঠিক আছে, আমরা প্রতিটি ম্যাচকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেব এবং প্রতিটি ম্যাচ জেতার জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছু করব। দিনশেষে, এটাই আপনার করণীয়।’
সেই জয়ের পর থেকে পেপ গার্দিওলার দল ৯টি ঘরোয়া ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে সাতটিতে জয় এবং দুটিতে ড্র করেছে। গত সপ্তাহে প্রিমিয়ার লিগে নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে হতাশাজনক ড্রয়ের ফলে তারা শিরোপাপ্রত্যাশী আর্সেনালের চেয়ে সাত পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছে। তবে বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা দলটি শনিবার এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তবে সিটি দল এমন এক সময়ে রিয়ালের মুখোমুখি হচ্ছে, যখন চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের ঘরের বাইরে পরিসংখ্যান খুব একটা সুবিধার নয়। শেষ আটটি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে তারা জয় পেয়েছে (১টি ড্র, ৫টি হার)।
রিয়ালের মতোই বড় পরীক্ষা দিতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে। ঘরের মাঠে চেলসিকে আতিথ্য দেবে তারা। এই চেলসির কাছে হেরেছিল ক্লাব বিশ্বকাপে।