২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি যদি চার বছর আগের বিশ্বজয়ীদের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করেন, তাহলে আলবিসেলেস্তেদের কপাল পুড়তে পারে। এমনটাই মনে করেন ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দানিয়েল বের্তোনি। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে বসতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছাড়াও আছেন কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী দলের আরও ১৬ জন খেলোয়াড়।
৭১ বছর বয়সী বের্তোনি মনে করেন, কেবল পুরোনোদের ওপর ভর করে শিরোপা ধরে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘ছয়বার ফাইনাল খেলে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড থাকার কারণে আর্জেন্টিনা অবশ্যই ফেবারিট। কিন্তু আমরা যদি মনে করি, কেবল নামের জোরে কিংবা অতীতের অর্জনের ওপর ভর করে আবারও চ্যাম্পিয়ন হব, তাহলে সেটা বড় ভুল হবে।’
বের্তোনির স্পষ্ট বার্তা, যে জিনিসটি আর্জেন্টিনার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি শেষ করে দিতে পারে, তা হলো চার বছর আগে বিশ্বকাপ জেতানো খেলোয়াড়দের ওপর কোচের অতিরিক্ত নির্ভরতা।
১৯৭৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-১ গোলের জয়ে অন্যতম গোলদাতা ছিলেন বের্তোনি। কাতারজয়ী দলের অতিনির্ভরতার পাশাপাশি অধিনায়ক লিওনেল মেসির ফিটনেস নিয়েও কিছুটা চিন্তিত এই সাবেক তারকা।
সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে মাঠ ছেড়েছিলেন মেসি। তবে তিনি সময়মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন, এই আশাতেই তাঁকে দলে রাখা হয়েছে। বের্তোনি বলেন, মেসি এখনো দলের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু তাঁর বয়স এখন ৩৯-এর কাছাকাছি (আগামী ২৪ জুন ৩৯ বছরে পা দেবেন)। টুর্নামেন্ট শুরুর সময়ে তিনি শারীরিকভাবে কতটা ফিট থাকেন, তা দেখতে হবে। ক্লাব ফুটবলে তিনি এখন আর আগের মতো শীর্ষ স্তরে খেলছেন না। তা ছাড়া তিনি আনহেল দি মারিয়াকেও মিস করবেন, যে কাতার বিশ্বকাপে মেসির পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলার মানসিক চাপ কেমন, তা ১৯৮২ বিশ্বকাপ দিয়ে খুব ভালো করেই জানেন বের্তোনি। সেবার দিয়েগো ম্যারাডোনা দলে থাকার পরও দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।
ইউরোপের সেভিয়া ও নাপোলির সাবেক এই উইঙ্গার বলেন, ‘এটি প্রচণ্ড চাপের। সবকিছু নির্ভর করে স্কোয়াডের বর্তমান অবস্থা এবং কোচ কীভাবে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন, তার ওপর। খেলোয়াড়েরা যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সেটা মাথায় রেখেও মাঠে নেমে শিরোপা ধরে রাখার জন্য নতুন করে লড়াই করার তাগিদ দিতে হবে কোচকে। ১৯৮২ সালে আমরা ভেবেছিলাম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ম্যারাডোনা ও নতুনদের নিয়ে আবারও জিতে যাব। কিন্তু বাস্তবে কাজটা মোটেও সহজ নয়, কারণ, সবাই আপনাকে হারাতে চায়।’