যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরেছে। এমতাবস্থায় এশিয়ার দলটি বিশ্বকাপে অংশ নেয় কি না, সেটা নিয়ে ঘোর শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সব শঙ্কা দূর করে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ইরান। ভ্রমণজনিত জটিলতা থাকার পরও পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গ্রুপপর্বে নিজেদের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই খেলেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া ভিসানীতির কারণে এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকোতে ঘাটি বানিয়েছে ইরান। গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো খেলতে তিনবার যুক্তরাষ্ট্র যেতে হয়েছে তাদের। একে তো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৈরি হওয়া নতুন তিক্ততা, তার ওপর ভ্রমণজনিত জটিলতা—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ইরান কেমন করে সেটাই দেখার ছিল। মজার ব্যাপার হলো, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপপর্বের একটি ম্যাচেও হারেনি দল আমির গোলেনুইয়ের দল। এরপরও টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় ইরান।
তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর পয়েন্ট টেবিলে আপাতত ছয় নম্বরে আছে ইরান। তিন ম্যাচে তিনটি ড্র নিয়ে তাদের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট, গোল ব্যবধান শূন্য। সিয়াটলে ‘জি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে টানা তৃতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে ইরান।
বর্তমানে ইরানের উপরে রয়েছে কয়েকটি দল—যেমন সুইডেন, ইকুয়েডর, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও প্যারাগুয়ে, যাদের সবার পয়েন্ট ৪ করে। অন্যদিকে ইরানের সমান ৩ পয়েন্টে রয়েছে সেনেগাল, ক্রোয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, আলজেরিয়া ও স্কটল্যান্ডের। এ ছাড়া উরুগুয়ে ও ডিআর কঙ্গো রয়েছে টেবিলের নিচের দিকে।
সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করতে না পারলেও এখনো আশা বেঁচে আছে ইরানের। ১২ গ্রুপ থেকে ২৪ দল সরাসরি নকআউটে জায়গা করে নেবে। বাকি ৮ দল পরের পর্বে যাবে তৃতীয় হওয়া সেরা আট দলের বিবেচনায়। নকআউটের দৌড়ে এখনো টিকে আছে, তৃতীয় স্থানে থাকা এমন দলগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, উরুগুয়ে, আলজেরিয়া, স্কটল্যান্ড ইরানের পেছনে রয়েছে। এরপরও কিছু ম্যাচের সমীকরণের ওপর নির্ভর ইরানের নকআউট ভাগ্য।
১. ক্রোয়েশিয়া যদি ঘানার বিপক্ষে যেকোনো ব্যবধানে হারে
২. আলজেরিয়া যদি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে যেকোনো ব্যবধানে হারে
৩. অস্ট্রিয়া যদি আলজেরিয়ার বিপক্ষে যেকোনো ব্যবধানে হারে
৪.ডিআর কঙ্গো ও উজবেকিস্তানের ম্যাচ ড্র হলে
৫. উজবেকিস্তান যদি ডিআর কঙ্গোকে ৮ গোলের কম ব্যবধানে হারায়