এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনাকে হারাতে একাদশ সাজানোর পাশাপাশি কৌশল নিয়েও ভাবছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিও। ফেদেরিকো ভালভার্দেকে তিনটি ভিন্ন পজিশনে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে একাদশের দুটি জায়গা নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই কোচকে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়ালের শুরুর একাদশে নয়জনের জায়গা প্রায় নিশ্চিত। বাকি দুই জায়গার একটি রাইটব্যাকে, অন্যটি রক্ষণভাগের কেন্দ্রে। ভালভার্দেকে কোথায় খেলাবেন, তার ওপর নির্ভর করছে দলের কৌশল ও বাকি খেলোয়াড়দের অবস্থান।
মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে আগামী ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে বার্সার বিপক্ষে খেলতে নামবে রিয়াল। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে কাতালানরা। তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়ালের চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে হান্সি ফ্লিকের দল।
ভালভার্দেকে রাইটব্যাকে খেলানোই আপাতত মরিনিওর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পরিকল্পনা। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে এই পজিশনে খেলেছিলেন উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার। ওই ম্যাচে দিয়োমান্দের গোলে সহায়তাও করেন তিনি। এরপর রোমা, সেভিয়া ও লাইপজিগের বিপক্ষেও রাইটব্যাক হিসেবে খেলেছেন ভালভার্দে।
টানা চার ম্যাচে একই পজিশনে খেলার পর ক্লাসিকোতেও তাঁকে এই পজিশনে দেখা যেতে পারে। আক্রমণে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া, মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরির সামর্থ্য ভালভার্দেকে এই ভূমিকায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
ভালভার্দে রাইটব্যাকে খেললে মাঝমাঠ ও ডান উইংয়ে একটি করে জায়গা ফাঁকা থাকবে। এই দুই জায়গার জন্য আর্দা গুলার, বের্নার্দো সিলভা ও এন্দ্রিকের মধ্যে লড়াই হতে পারে।
মরিনিও ডান প্রান্তে বাঁ পায়ের খেলোয়াড় খেলাতে পছন্দ করেন। ওই খেলোয়াড় ভেতরের দিকে চলে এলে ভালভার্দে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। গুলার ও সিলভা একসঙ্গে খেললে তাঁদের একজনকে ডান উইংয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। এন্দ্রিক একাদশে সুযোগ পেলে গুলার বা সিলভার একজনকে চুয়ামেনির পাশে মাঝমাঠে খেলতে হতে পারে।
ভালভার্দেকে মাঝমাঠে রেখে চুয়ামেনির সঙ্গে জুটি গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে মরিনিওর। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল বিবেচনা রক্ষণাত্মক শক্তি। চুয়ামেনির পাশে গুলার কিংবা সিলভাকে খেলালে মাঝমাঠে শারীরিক শক্তির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
প্রতিপক্ষের চাপ সামলানো এবং রক্ষণকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভালভার্দে ও চুয়ামেনির জুটি কার্যকর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গুলারকে ডান উইংয়ে খেলানো হতে পারে। রাইটব্যাকের দায়িত্ব পেতে পারেন ডেনজেল ডামফ্রিস, যিনি আপাতত ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ডের চেয়ে এগিয়ে আছেন।
এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে মৌসুমের শুরুতে রিয়াল যে কৌশলে বেশি খেলেছে, সেই পরিকল্পনায় ফিরবে দলটি। তবে এই কৌশলে মাঝমাঠের সমন্বয় নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে।
ভালভার্দেকে ডান উইংয়ে খেলানোও মরিনিওর বিবেচনায় রয়েছে। এই কৌশলে রিয়ালের ডান প্রান্ত আরও শক্তিশালী হতে পারে। গর্ডন ও করিম আদেয়েমিও একাদশে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে থাকবেন।
এই পরিকল্পনায় চুয়ামেনির পাশে মাঝমাঠে গুলারের খেলার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে, রাইটব্যাকের জায়গার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলবে।
ভালভার্দে ও গুলার নিয়মিত নিজেদের অবস্থান বদলে খেলতে পারেন। একজন মাঝমাঠের দিকে সরে গেলে অন্যজন প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠবেন। পরে আবার দুজন নিজেদের অবস্থান বদলে নেবেন। এতে আক্রমণে বৈচিত্র্য বাড়বে এবং দল দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।
বার্সাকে বলের দখল ছেড়ে দিয়ে রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এই কৌশল কাজে আসতে পারে। তবে এতে মাঝমাঠের শারীরিক শক্তি কিছুটা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
একাদশের দ্বিতীয় অনিশ্চিত জায়গাটি রক্ষণভাগের কেন্দ্রে। ইব্রাহিমা কোনাতের পাশে ডিন হাউসেন ও আন্তোনিও রুডিগারের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে মরিনিওকে।
হাউসেন পেছন থেকে বল নিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলতে বেশি দক্ষ। তবে রক্ষণ সামলানোর ক্ষেত্রে তিনি রুডিগারের মতো দৃঢ় নন। অন্যদিকে, শারীরিক শক্তি ও রক্ষণাত্মক দৃঢ়তায় এগিয়ে রুডিগার। কিন্তু পায়ে বল নিয়ে খেলার ক্ষেত্রে তিনি তুলনামূলক কম স্বচ্ছন্দ।
এখন পর্যন্ত শুরুর একাদশে হাউসেনকে বেশি সুযোগ দিয়েছেন মরিনিও। তাঁর শুরুর একাদশে খেলার সংখ্যা ৯, যেখানে রুডিগারের সংখ্যা ৫।
কোনাতের জায়গা নিয়ে অবশ্য কোনো সংশয় নেই। মরিনিওর আস্থাভাজন এই ডিফেন্ডার এখন পর্যন্ত ১০টি ম্যাচে শুরু থেকে খেলেছেন। মালাগা ও লাইপজিগের বিপক্ষে তাঁকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ।