সবচেয়ে বেশি পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল, চারবার করে শিরোপা জিতেছে ইতালি ও জার্মানি। কিন্তু বিশ্বকাপের সফল এই তিন দলের কেউ প্রথম চ্যাম্পিয়ন নয়; প্রথম চ্যাম্পিয়ন দলের প্রশ্নে মুখে নাম নিতে হয় উরুগুয়ের। ১৯৩০ সালের সেই বিশ্বকাপের ২০ বছর পর তারা দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সবাইকে চমকে দিয়ে। ১৯৫০ সালের ভরা গ্যালারির মারাকানার ফাইনালে ব্রাজিল নিরঙ্কুশ ফেবারিট। কিন্তু স্বাগতিকদের থ বানিয়ে সেবারও বিশ্বকাপ জিতে নেয় উরুগুয়ে। সেসব সোনালি দিন এখন অতীত। গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছিল উরুগুয়ে। কিন্তু এবার অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করেই ভালো কিছু অর্জন করতে চায় উরুগুয়ে।
সেই চাওয়া থেকে দলের কোচ হিসেবে আর্জেন্টাইন মার্সেলো বিয়েলসাকে নিয়োগ দেওয়া। যদিও এবারের উরুগুয়ে দলে নেই লুইস সুয়ারেজ কিংবা এডিনসন কাভানি। কিন্তু তাতে কী! বিয়েলসা দলটির কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উরুগুয়ে পেয়েছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। আর্জেন্টাইন কোচের আক্রমণাত্মক এবং হাই-প্রেসিং ফুটবল দর্শনে মধ্যমাঠের ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং আক্রমণের ডারউইন নুনেজের কার্যকর ভূমিকা উরুগুইয়ানদের প্রত্যাশিত সাফল্য পাইয়ে দিতে পারে। বাছাইপর্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে উরুগুয়ে প্রমাণ করেছে তারা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম।
মার্সেলো বিয়েলসা ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলাতে পারেন গুরুগুয়েকে। যেখানে উইঙ্গারদের গতি এবং মিডফিল্ডের শক্তিমত্তাই মূল অস্ত্র। তাই দল নির্বাচনে খেলোয়াড়দের ফিটনেসের ওপরই জোর দিয়ে এসেছেন তিনি। ফিটনেস এবং মাঠের কার্যকর পরিশ্রমই হবে দলে জায়গা ধরে রাখার চাবিকাঠি—দায়িত্ব নেওয়ার পরই শিষ্যদের মাঝে এমন একটা আবহ ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
সুয়ারেজ-কাভানি উত্তর যুগে উরুগুয়ের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি দলের জন্য কতখানি, সেটি ভালভার্দে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বারবার প্রমাণ করেছেন। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সেটাই তাঁর প্রমাণের পালা। তাঁর দূরপাল্লার শট এবং মাঠজুড়ে দৌড়ানোর ক্ষমতা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই মাথাব্যথার কারণ। আর আক্রমণভাগে দলকে নেতৃত্ব দেবেন ডারউইন নুনেজ, যিনি নিজের ক্ষমতা ক্লাব ফুটবলে এরই মধ্যে দেখিয়েছেন লিভারপুলের হয়ে।
তবে উরুগুয়ের শক্তির জায়গা হলো অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের সুষম সমন্বয়। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হোসে মারিয়া জিমেনেজের পাশাপাশি রোনাল্ড আরাউহোর মতো তরুণেরা রক্ষণভাগকে দুর্ভেদ্য করে তুলেছেন। ভালভার্দের সঙ্গে রদ্রিগো বেন্টানকুরের দারুণ বোঝাপড়া মাঝমাঠে দলটিকে দারুণ ভারসাম্য এনে দিয়েছে।
বাংলাদেশ সময় ১৬ জুন ভোর ৪টায় সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে উরুগুয়ে। ভেন্যু মায়ামি। ২২ জুন একই ভেন্যুতে ভালভার্দে-ডারউইন নুনেজরা খেলবেন বিশ্বকাপে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ের শেষ ম্যাচ ২৭ জুন, প্রতিপক্ষে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
কোচ মার্সেলো বিয়েলসাকে সবাই ‘এল লোকো’ নামেই চেনে। স্প্যানিশ এই শব্দের অর্থ পাগল কিংবা উন্মাদ। তাঁর অপ্রথাগত কৌশল এবং ফুটবলের প্রতি তীব্র নেশার কারণেই ভালোবেসে লোকে ডাকে এই নামে। ২০২৩ সালে উরুগুয়ে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের মিশেলে দারুণ একটা দল গড়েছেন, যারা তাঁর আক্রমণাত্নক, হাই-প্রেসিং ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো ফর্ম ও ফিটনেসের ওপর জোর দিয়ে এসেছেন বিয়েলসা। তাঁর পছন্দের ফরমেশন ৪-৩-৩।
আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা গোল করে সহজেই দর্শকের নজর কাড়তে পারেন। কিন্তু আক্রমণভাগের খেলোয়াড় না হলেও যিনি দর্শকের নজরে থাকেন, তিনি ফেদেরিকো ভালভার্দে। উরুগুয়ের দলের প্রাণভোমরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রিয়াল মাদিদের এই তারকা। রিয়ালের হয়ে যে ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে, উরুগুয়ে দলে এবার সেই ভূমিকা দেখার জন্য মুখিয়ে তাঁর সমর্থকেরা। তাঁর দূরপাল্লার শট এবং মধ্যমাঠে সৃজনশীলতা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই আতঙ্কের কারণ হতে পারে।
র্যাঙ্কিং: ১৭
অঞ্চল: লাতিন আমেরিকা/কনমেবল
অংশগ্রহণ: ১৫
সেরা সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (১৯৩০ ও ১৯৫০)