ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর পর্তুগাল যেমন সমালোচনায় পড়েছিল, তুমুল সমালোচনা হয়েছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়েও। কিন্তু তারকাদের নিয়ে যে আগেভাগেই কোনো উপসংহারে আসা যায় না। বিশেষ করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকারা নিজেদের মেলে ধরতে তেমন একটা সময় নেন না। তবে পর্তুগিজ তারকা ফরোয়ার্ডের একটা কথা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জ্লাতান ইবরাহিমোভিচ।
হিউস্টনে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হতেই মাঠের ভেতরের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে রোনালদো চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘আই অ্যাম ব্যাক’ (আমি ফিরে এসেছি)। দলের ৫-০ গোলে জয়ের উচ্ছ্বাস তো ছিলই। একই সঙ্গে সমালোচনাকে পেছনে ফেলে যেভাবে জোড়া গোল করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সেটারও বহিঃপ্রকাশ তাঁর ‘আই অ্যাম ব্যাক’ কথাতেই। ম্যাচ শেষে ইবরাহিমোভিচ বলেন, ‘‘তার বার্তার ব্যাপারে বলতে গেলে, আমার তো মনে হয় সে কখনোই হারিয়ে যায়নি। ‘আমি ফিরে এসেছি’-এই কথা সে কেন বলেছে, তা আমি বুঝতে পারছি না।’’
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোল পাচ্ছিলেন না রোনালদো। গত রাতে ডেডলক ভাঙেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ৬ ও ৩৯ মিনিটে জোড়া গোল করে জোড়া রেকর্ড গড়েছেন তিনি। প্রথমত একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ছয় ফুটবল বিশ্বকাপের প্রত্যেকটিতেই গোল করেছেন রোনালদো। আর ইউসেবিওকে টপকে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি রোনালদো নিজের করে নিলেন। বিশ্বকাপে ইউসেবিও এবং রোনালদো করেছেন ৯ ও ১০ গোল।
ইবরাহিমোভিচের মতে নবাগত উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগাল যে গোলের বন্যা বইয়ে দেবে, এমনটাই হওয়ার কথা ছিল স্বাভাবিক। সুইডেনের সাবেক ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এই ম্যাচে গোল হওয়ারই ছিল। পর্তুগাল অনেক গোল করবে, এমনটাই হওয়ার কথা ছিল এই ম্যাচে।’
৫-০ গোলে জয়ের পর রোনালদোকেও দেখা গেছে বেশ উৎফুল্ল। কঠিন মুহূর্তে সতীর্থদের কাছ থেকে এমন দুর্দান্ত সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি কতটা আশাবাদী ছিলেন, সে ব্যাপারে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি জানতাম। যারা কঠোর পরিশ্রম করে ঈশ্বর তাদের সাহায্য করেন। আমি জানতাম আমার সতীর্থরাও আমাকে সাহায্য করবে। এটি একটি কঠিন সপ্তাহ ছিল, একটি অন্ধকার সপ্তাহ, তবে আমার সতীর্থরা সাহায্য করেছে। মনে হচ্ছিল যেন আমি ইতিমধ্যেই ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি। সময়টা কঠিন ছিল। তবে আমরা ফিরে এসেছি।’
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলে জয়ের পর ‘কে’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে পর্তুগাল। দুই ম্যাচে পর্তুগিজদের পয়েন্ট ৪। দুই ম্যাচের দুটিতে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে কলম্বিয়া। ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ডি আর কঙ্গো। আর দুই ম্যাচের দুটিতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল উজবেকিস্তান।