বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সেটা মানতে নারাজ আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর মতে, যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনাল জিতেছে স্পেন। সেখানে রেফারির কোনো হাত নেই।
ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে ইউরোপের দলটি। তাদের দাপটের সামনে ম্যাচজুড়ে নিজেদের হারিয়ে খুঁজেছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো শটই নিতে পারেনি তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে নির্ধারিত সময়ে একটি শটও না নেওয়ার বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে লাতিন আমেরিকান দলটির শট ছিল মাত্র দুটি, যার প্রথমটি আসে লিওনেল মেসির কাছ থেকে ১১৭তম মিনিটে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফার্নান্দেস। এই ঘটনায় রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভক্তরা। আর্জেন্টিনার কিছু ফুটবলারও রেফারির এই সিদ্ধান্তে নাখোশ। তবে এই ঘটনায় স্কালোনি অবস্থান ভিন্ন।
আর্জেন্টিনায় ফিরে সাংবাদিকদের স্কালোনি বলেন, ‘রেফারিং কি অন্যায্য ছিল? না, আমরা হেরেছি কারণ স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো ছিল। আমাদের এটা স্বীকার করতেই হবে, তারা ভালো খেলেছে। এটা মেনে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে আমাদের আরও ভালো হতে সাহায্য করবে।’
ফাইনালে আর্জেন্টিনার নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পেছনে ক্লান্তিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন স্কালোনি, ‘সম্ভবত আমরা ফাইনালে পৌঁছেছিলাম শেষ শক্তিটুকু নিয়েই, এটাই বাস্তবতা।’
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুর্ভাগ্য আরও বাড়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের চোটে। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডারকে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্তিনেজ লিখেছেন, ‘আমরা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি, এমন কিছু অর্জন করেছি যা একসময় অসম্ভব মনে হয়েছিল। কখনো অজুহাত খুঁজিনি, শুধু এগিয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজেছি।’
মার্তিনেস আরও লেখেন, ‘আমরা মাঠের বাইরেও নিজেদের দেশের রংকে সম্মান করেছি। এই দলটার সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে এবং প্রতিটি আর্জেন্টাইনের নিঃশর্ত সমর্থনে আমরা অসাধারণ কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছি। আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আমার জন্য বিশাল সম্মানের।’