বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মালিকানা বিক্রির বিতর্ক ঘিরে এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচনা করলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তাঁর দাবি, এমন একটি প্রস্তাব সামনে আনাই প্রমাণ করে, ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নন।
ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেওয়া এই বিতর্কের সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, ফিফা তাদের নতুন প্রতিষ্ঠান ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের সংখ্যালঘু মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করছে। পরে ফিফা নিশ্চিত করে, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছে থ্রাইভ ইটারনাল। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন জশুয়া কুশনার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।
বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এমনকি ইউরোপের বিভিন্ন দেশও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাতিল না হলে তারা বিশ্ববকাপ বয়কট করবে।
আলোচিত ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক একটি প্রস্তাব ছিল। এমন একটি প্রস্তাব সামনে আসায় প্রমাণ হয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সঠিক ব্যক্তি নন।’
বার্নহ্যামের এই মন্তব্য আসে ফিফা সভাপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরোর পদত্যাগ ঘোষণার পর। শুক্রবার সকালে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে কর্দেইরো বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটিকে ফুটবলের জন্য একটি খারাপ চুক্তি বলে অভিহিত করেন।
কর্দেইরো বলেন, ‘ফুটবল আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যাংকিং খাতে ৩৫ বছরেরও বেশি সময় কাজ করার অভিজ্ঞতায় আমি এই সম্পদের মূল্য যেমন বুঝি, তেমনি এর একটি অংশ ছেড়ে দেওয়ার পরিণতিও বুঝি। তাই এই প্রস্তাব অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করা উচিত।’
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ফিফা ও ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব বহাল থাকলে তাদের সদস্যভুক্ত কোনো দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।
উয়েফার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই প্রস্তাবগুলো বহাল থাকা পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। এটি শুধু নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতাই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর শামিল। বাইরের বিনিয়োগকারীরা একবার ফিফার প্রতিযোগিতায় মালিকানার অংশীদার হয়ে গেলে ফুটবল চিরতরে বদলে যাবে। তখন বাণিজ্যিক মুনাফা নিশ্চিত করাই হবে স্থায়ী বাধ্যবাধকতা, আর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা প্রতিদিনের চাপ হয়ে দাঁড়াবে।’