আজ বাদে কাল শুরু হবে নারী এশিয়ান কাপ। এশিয়ার সেরা ১২টি দল লড়াই করবে একটি শিরোপার জন্য। এই ১২ দলের মধ্যে আছে বাংলাদেশও। এমন এক টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নেওয়াই বড় অর্জনের মধ্যে পড়ে।
আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের ওপর তাই বাড়তি কোনো প্রত্যাশার চাপ নেই। নিজেদের সেরাটা তাঁরা নিংড়ে দেবেন, এটাই চাওয়া দলের কাছে। সেই চাওয়াতেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে প্রযুক্তি।
এবারই প্রথম নারী এশিয়ান কাপে ব্যবহার করা হবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি। সংক্ষেপে যা ‘ভিএআর’ বলে পরিচিত। কিন্তু বাংলাদেশ দলের কোনো ফুটবলারই এর সঙ্গে পরিচিত নন। হয়তো নাম শুনেছেন, চোখেও দেখেছেন। কিন্তু এর সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়া তো দূরের কথা, খেলা-ই হয়ে ওঠেনি কখনো।
ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে অনেক প্রথমেরই স্বাদ নিতে হচ্ছে বাংলাদেশের। ভিএআর সিস্টেমের পরিপূরক হিসেবে থাকবে ভার্চুয়াল অফসাইড লাইন (ভিওএল), যা অফসাইড-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় ব্যবহৃত হবে। বিদ্যমান ভিএআর কাঠামোর মধ্যে নির্ভুলতার টু-ডি ও থ্রি-ডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন প্রদানের মাধ্যমে ভিওএল সূক্ষ্মভাবে অফসাইড মূল্যায়নের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে খেলোয়াড়ের শরীরের কোনো অংশ যদি প্রতিপক্ষের চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকে, তবে তা পরিষ্কারভাবে ধরা পড়বে। আগে লাইনসম্যানরা চোখের আন্দাজে যা দেখতেন, এখন এই প্রযুক্তি সেটি একদম নির্ভুলভাবে মেপে দেবে। এতে ভুল হওয়ার সুযোগ কমে যাবে এবং খেলা আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের ফুটবলাররা কি মানিয়ে নিতে পারবে এর সঙ্গে। কোচ পিটার বাটলার লম্বা সময় ধরে দলকে হাইলাইন ডিফেন্স কৌশলে খেলিয়ে যাচ্ছেন। তবে এশিয়ান কাপে প্রতিপক্ষ বিবেচনায় নিজের কৌশলে পরিবর্তন আনার কথা অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগেই জানিয়ে যান তিনি।
যদিও ভিএআরের যুগে হাইলাইন ডিফেন্স কৌশল আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যে দর্শনের মূল উদ্দেশ্য শুধু গোল বাঁচানো নয়, বরং প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধে জায়গা না দেওয়া এবং তাঁদের ফরোয়ার্ডদের বারবার অফসাইডের ফাঁদে ফেলা।
বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের জন্য ভিএআর যেমন একটি ‘সেফটি নেট’, তেমনি বড় দুশ্চিন্তার কারণও। ভিএআর প্রটোকল অনুযায়ী, অফসাইড হলেও খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেফারি বাঁশি বাজাবেন না। একবার মনোযোগ হারালে এবং ভিএআর পরীক্ষায় অফসাইড প্রমাণিত না হলে গোল হজমের চরম মূল্য দিতে হতে পারে।
গতকাল সিডনি থেকে নারী দলের মিডিয়া ম্যানেজার সাঈদ হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গতকাল এএফসির রেফারি এডুকেটর ভিএআর নিয়ে ফুটবলারদের এক ঘণ্টা ক্লাস করিয়েছেন। ফুটবলাররা আত্মবিশ্বাসী এ ব্যাপারে।’
বাংলাদেশ দল কতটুকু আয়ত্তে আনতে পেরেছে, তা মাঠের খেলায় বোঝা যাবে। ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে ছয় দিনের ক্যাম্প শেষে গতকাল সিডনিতে এএফসি নির্ধারিত হোটেলে উঠেছেন ঋতুপর্ণা-আফঈদারা। জুবিলি স্টেডিয়ামে দেড় ঘণ্টা অনুশীলনও করেছেন।
দলের সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘দলে তেমন কোনো ইনজুরি নেই, ছোটখাটো ইনজুরি যেটা আছে আলহামদুলিল্লাহ ফিজিও আছে, ওটার রিকভারি হচ্ছে। আর দলের পারফরম্যান্স; সবাই সবার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
কাল থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হলেও বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৩ মার্চ সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে। সেই ম্যাচের মাঝখানেই পড়েছে ইফতারের সময়। এবারই প্রথম নারী এশিয়ান কাপে রোজা ভাঙার জন্য ম্যাচ চলাকালে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেছে এএফসি। তবে দলের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ দলের কোনো ফুটবলারই রোজা রেখে প্রথম ম্যাচে খেলতে নামবেন না।