২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বাকি সাড়ে তিন বছরের মতো। তবে এখনই সেই বিশ্বকাপ নিয়ে চলছে নানা রকম আলাপ-আলোচনা। এরই মধ্যে স্পেন এক দাবি তুলেছে। যা পূরণ না হলে বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে সরে যাওয়ার একরকম ‘হুমকি’ দিয়েছে স্প্যানিশরা।
সাড়ে তিন বছর পর আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে হবে। যার মধ্যে ফাইনাল আয়োজনের দাবিদার স্পেন ও মরক্কো। যদি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ আয়োজন করতে না দেওয়া হয়, তাহলে পর্তুগাল-মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে স্পেনের সরে দাঁড়ানো উচিত—এমন মন্তব্য করেছেন স্পেনের প্রধান বিরোধী দল পপুলার পার্টির (পিপি) নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইখো।
মরক্কোকে ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হলে স্পেন যৌথ আয়োজক হিসেবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার পক্ষে ফেইখো অবস্থান নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। উত্তর হলো হ্যাঁ।’ আজ সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ শক্তিকে অপমান করা যায় না।’
২০৩০ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো—তিনটি দেশই টুর্নামেন্টের ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম এবং কাসাব্লাঙ্কার কাছে বেনস্লিমানে নির্মাণাধীন ১ লাখ ১৫ হাজার আসনবিশিষ্ট একটি পরিকল্পিত স্টেডিয়াম। গতকাল রাতে স্পেনের টেলিভিশন অনুষ্ঠান এল চিরিঙ্গিতোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেইখো বলেন, বিশ্বকাপের ফাইনাল এমন জায়গায় অনুষ্ঠিত হতে হবে, যেখানে আয়োজন করাটা ন্যায্য, উপযুক্ত। আর সেই জায়গা হলো স্পেন।
মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা, যিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সমর্থক, সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, কেউ পছন্দ করুক বা না করুক, বিশ্বকাপের জমকালো ফাইনাল মরক্কোতেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে ফিফা জানিয়েছে, ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই এই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। গত জুলাইয়ে স্পেনের উত্তর আফ্রিকীয় ভূখণ্ড সেউতায় ব্যাপক অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। ওই সময় প্রতিবেশী মরক্কো থেকে কয়েক হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। ফেইখো এই ঘটনাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর পেছনে মরক্কোর ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে মরক্কোর প্রতি আরও কঠোর নীতি নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
এ বছরের জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার যৌথ আয়োজনে হয়েছিল বিশ্বকাপ। তিন দেশ মিলিয়ে এটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। জয়সূচক গোলটা করেন ফেরান তোরেস।