বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রাণশক্তি সমর্থকেরা। খেলা থাকলেই মাঠে তাঁরা ছুটে তো আসেনই, গ্যালারিতে চিৎকার করে সমর্থন দিয়ে যান দলকে। এই দর্শকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নতুন করে ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠে দর্শকদের অভিজ্ঞতা শুনতে এবং তাঁদের সমস্যাগুলো বুঝতে এখন থেকে নিজেই কথা বলবেন নতুন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
আজ বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় তামিম ইকবাল এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন যে এত দিন খেলোয়াড় ও স্টাফদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কাজ করা হলেও দর্শকদের জন্য সেভাবে কিছু করা হয়নি। তামিম বলেন, ‘আমরা বিসিবিতে খেলোয়াড়, স্টাফ ও কোচদের সমস্যা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি। কিন্তু এতগুলো বছর ধরে আমাদের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার বা অংশীজন যাঁরা আমাদের ফ্যান, সেই দর্শকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কখনো কথা বলার চেষ্টা করিনি। আমি এই জায়গায় পরিবর্তন আনতে চাই। একজন দর্শক যখন মাঠে আসবেন, তার অভিজ্ঞতা যেন চমৎকার হয়, তিনি যেন বাসায় গিয়ে তৃপ্তি নিয়ে বলতে পারেন যে আজ নিজের দলের খেলা দেখেছি।’
মাঠের দর্শকদের মধ্য থেকে দৈব চয়ন পদ্ধতিতে ৫-১০ জনকে বেছে নিয়ে তামিম কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গেট দিয়ে ঢোকা থেকে শুরু করে সিটে বসা, এমনকি পানি ও খাবারের ব্যবস্থার মতো খুঁটিনাটি সব বিষয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া জানবেন তিনি। সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ‘এক সঙ্গে তো সবার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয়। তাই আমরা দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে ৫-১০ জনকে বেছে নেব। আমি নিজে তাঁদের সঙ্গে বসব। তাদের কী কী সমস্যা হচ্ছে বা কোন জায়গায় আমাদের আরও উন্নতি করা দরকার— সেসব জানব। ইনশা আল্লাহ ১৭ তারিখ প্রথম ম্যাচ থেকেই এটি শুরু করব।’
শুধু সভাপতি নিজেই নন, বিসিবির বিশেষ প্রতিনিধি দলও গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন। তাঁরা দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করে সরাসরি সভাপতির কাছে জমা দেবেন। শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজেই কার্যকর হতে যাচ্ছে এই উদ্যোগ। সমর্থকদের মাঠে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আপনারা সবাই মাঠে এসে দলকে সমর্থন দেবেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা আমাদের শেয়ার করবেন। যাতে আমরা দর্শকদের জন্য খেলা দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত ও স্মৃতিমধুর করতে পারি।’