কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে আলোচিত নাম এম নাজমুল ইসলাম। ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে আসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই পরিচালক। তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বিসিবি। সেই উত্তর দিয়েছেন নাজমুল। বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান ফয়জুর রহমান মিতু আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাজমুলকে গত ১৫ জানুয়ারি সকালে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিসিবি। ১৭ জানুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয় তাঁকে। সে সময় পেরিয়ে গেলেও নীরব ছিলেন বিসিবির এই পরিচালক। অবশেষে তাঁর চিঠির উত্তর দিলেন তিনি। নাজমুল ইসলাম চিঠিতে কী লিখেছেন সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। আগামী ২৪ জানুয়ারি বোর্ড মিটিংয়ে নাজমুলের বিষয়টি তোলা হবে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি।
ফায়জুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, ‘আমরা তাঁর (এম নাজমুল ইসলাম) চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি আমরা আগামী বোর্ড সভায় তুলব। সেখানেই এ ব্যাপারে আলোচনা হবে।’
বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পরিচালক পদ থেকে নাজমুলকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরিচালক মানসিক ভারসাম্য হারালে, মৃত্যুবরণ করলে, টানা তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকলে কিংবা কোনো ফৌজধারী অপরাধ করলেই কেবল তাঁকে অব্যাহতি দিতে পারবে বিসিবি। তাই বোর্ড সভায় নাজমুলকে যে বিসিবি পরিচালক পদ থেকে সরানোর ঘোষণা যে আসছে না সেটা নিশ্চিতই বলা যায়।
প্রথমে তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আলোচনায় আসেন নাজমুল। এরপর ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক এবং সাফল্য নিয়ে মন্তব্য করে দেশের ক্রিকেটে রীতিমতো আগুন জ্বালিয়ে দেন। বিতর্কিত মন্তব্যের পর নাজমুলকে বিসিবি পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি না দিলে ক্রিকেট বর্জনের হুমকি দেন ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।
ক্রিকেটারদের দাবিতে নাজমুলকে অর্থ বিভাগের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় বিসিবি। তাতে মন গলেনি ক্রিকেটারদের। ১৫ জানুয়ারি বিপিএলে ঢাকা পর্বের দুটি ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটাররা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেন। ১৬ তারিখ থেকে শুরু হয় বিপিএলের ঢাকা পর্ব।