টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—কোন সংস্করণে বাংলাদেশ বেশি ভালো, ৮-৯ বছর আগেও চোখ বন্ধ করে অনেকে ওয়ানডের কথাই বলতেন। মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা বাংলাদেশকে জয়ের অনেক উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন। তবে সেগুলো এখন কেবল অতীত। এক সময়ের ‘প্রিয় সংস্করণে’ বাংলাদেশ রীতিমতো হাবুডুবু খাচ্ছে। বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স দলকে নিয়ে যেতে চান আগের অবস্থাতে।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশের ওয়ানডেতে ভরাডুবি হতে থাকে। সেবার ৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২ ম্যাচ জিতে কোনোরকমে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। যদিও ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের ফিরতে হয় শূন্য হাতে। তা ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সিরিজেও অবস্থা ভালো না। ২০২৪-২৫ সালে ছয় ওয়ানডে সিরিজ খেলে জিতেছে দুটিতে। আর বর্তমানে ৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে রয়েছে দলটি। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে ৯ নম্বরে থাকতে হবে। যেখানে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষেও খেলতে হবে বাংলাদেশকে।
মিরপুরে পরশু শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আসেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা ছাপিয়ে এই সংস্করণে হারানো গৌরব ফিরে পেতে চান তিনি। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমরা শুধুই বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিয়ে চিন্তা করছি না। ওয়ানডে ক্রিকেটে ভালো করতে চাই। কয়েক বছর আগে আমরা যেখানে ছিলাম। বাংলাদেশ ওয়ানডেতে অনেক দারুণ খেলেছিল। সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছিল। তবে আমরা ছেলেদের নিয়ে কাজ করছি এবং আমাদের যে প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে, তাদের নিয়ে কাজ করতে চাই। আগের অবস্থায় ফিরতে চাই।’
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরে তামিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। সাকিব ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে খেলতে পারছেন না বাংলাদেশ দলে। মুশফিক বিদায় বলেছেন ওয়ানডে থেকে। শান্তর পরিবর্তে মিরাজের কাঁধে নেতৃত্বভার তুলে দেওয়া হলেও দলের আহামরি কোনো পরিবর্তন হয়নি। উপরন্তু গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধবলধোলাই হয়ে একের পর এক বাজে রেকর্ডে নাম উঠেছে বাংলাদেশের।
সরাসরি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বারবার প্রশ্ন এসেছে সিমন্সের কাছে। তবে বাংলাদেশ কোচের চাওয়া আরও বড় কিছু। সংবাদ সম্মেলনে আজ সিমন্স বলেন, ‘টেবিলে (র্যাঙ্কিংয়ে) যেন ওপরের দিকে উঠতে পারি। সরাসরি কোয়ালিফাইয়ের ব্যাপার না এখানে। সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে পারলে তো ভালো। কিন্তু ভালো ক্রিকেট খেলে আমরা আরও সামনে এগোতে চাই।’
শাহিন শাহ আফ্রিদিকে অধিনায়ক করে ৪ মার্চ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণা করেছে। ১৫ সদস্যের দল থেকে বাবর আজম, ফখর জামান, সাইম আইয়ুবদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের মধ্যে বাবরের বাদ পড়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি। তিনি সবশেষ গত বছরের নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সেঞ্চুরি করেছিলেন। উপরন্তু ছয় নতুন ক্রিকেটার নিয়ে বাংলাদেশ সিরিজের দল দিয়েছে পিসিবি। যাঁদের মধ্যে ফারহানের শুধুই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
পাকিস্তান যে ছয় অনভিষিক্ত ক্রিকেটার নিয়ে আসছে, সেটা তেমন একটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারবে বলে মনে করেন না সিমন্স। বাংলাদেশ কোচ আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রথমত আপনি কাউকে হালকাভাবে নিতে পারবেন না। পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে বলার কোনো উপায় নেই। অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে সেখানে। অনভিষিক্ত ক্রিকেটার কোনো পার্থক্য গড়ে দেবে না।’
পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে সাকিবের ফেরা নিয়ে আলোচনা চলছিল অনেক দিন ধরেই। তবে ৫ মার্চ বিসিবি দল ঘোষণা করেছে তাঁকে ছাড়াই। সামনে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের যে হোম সিরিজ রয়েছে, সেখানে কি সাকিবকে দেখা যাবে—এই প্রশ্নের উত্তরে আজ সিমন্স বলেন, ‘আপনি যেসব শুনেছেন, আমিও সেগুলোই জেনেছি। এটাই বলতে পারি।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে গতকাল। তবে সদ্য সমাপ্ত আইসিসির এই ইভেন্টে নানা কারণে বাংলাদেশ খেলতেই পারেনি। বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে সিমন্সের কাছেও এসেছে সেই প্রশ্ন। বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘এটা একটা ভালো প্রশ্ন। আমরা সেখান থেকে উতড়ে যাচ্ছি। ক্রিকেটারদের জন্য হৃদয়বিদারক ঘটনা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি। খুবই হৃদয়বিদারক ঘটনা। তবে বিসিএল খেলে ক্রিকেটারদের খেলার মধ্যে রাখা গেছে। ৫০ ওভারের ক্রিকেট কেমন হয়, সেটা তারা বুঝেছে। আমার মতে সঠিক পথেই আছি আমরা।’
১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। মিরপুরে সব ম্যাচই বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে।