বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু গতকাল দল ঘোষণার পর এক ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে রশিদ না থাকাটা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির। তবে লিপুর এই কথার সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না ফিল সিমন্স।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছেন রশিদ খান। তিন ওয়ানডেতে ২.৭৩ ইকোনমিতে নিয়েছেন ১১ উইকেট। তাঁর বল বুঝতে না পেরে সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহানরা বোল্ড-এলবিডব্লু হয়ে গেছেন। মিরপুরে আগামীকাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্সের কাছে প্রশ্ন এসেছে, রশিদের না থাকাটা কি স্বস্তির বাংলাদেশের জন্য? সাংবাদিকদের বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেছেন, ‘রশিদ খানের না থাকার ব্যাপারটা আপনি স্বস্তি হিসেবে দেখতে পারেন। কিন্তু তাদের দুই তিন জন বিশ্বমানের স্পিনার আছে। আমাদের এটা নিয়ে ভাবতে হবে। তাদের যে কোনো ভালো স্পিনার নেই, সেটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজের দলে আছেন দুই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার রস্টন চেজ ও খ্যারি পিয়েরে। সঙ্গে থাকছেন বাঁহাতি স্পিনার গুড়াকেশ মোতি। বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে মোতি আছেন ১২ নম্বরে। উইন্ডিজ বোলারদের মধ্যে তিনিই সবার আগে। সিমন্স যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের হেলাফেলা করতে না করেছেন, সেটা অমূলক নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান কোচ মনে করিয়ে দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার আগে। সেবার শ্রীলঙ্কার কাছে গ্রুপ পর্বে হারলেও সুপার ফোরে জিতেছিল বাংলাদেশ। তখন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ভেল্লালাগের মতো স্পিনারদের দারুণভাবে সামলেছিলেন সাইফ হাসান-তাওহীদ হৃদয়রা।
রশিদ খান ও উইন্ডিজ স্পিনারদের প্রসঙ্গে সিমন্সের মূল কথা হলো, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে হবে। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘এটা অবশ্যই মানসিকতার ব্যাপার। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছি। তাদের বিশ্বসেরা স্পিনারদের দারুণভাবে সামলেছি আমরা। এমনটা আসলে হতেই পারে।’
শারজায় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ভেন্যু বদলে আবুধাবিতে যখন ওয়ানডে সিরিজ হলো, তখন বাংলাদেশ বাজে খেলেছে। ৩-০ ব্যবধানে আফগানিস্তানের কাছে ধবলধোলাই হওয়া শুধু নয়, হারের ধরন নিয়েও হয়েছে সমালোচনা। যার মধ্যে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৯৩ রানে অলআউট হয়ে ২০০ রানে হেরেছে।
অতীত ভুলে এখন সামনে এগোতে চাইছেন সিমন্স। মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রধান কোচ বলেন, ‘এ ধরনের সিরিজের পর যা হয়েছে, সেগুলোকে আপনাকে পেছনে ফেলে সামনে এগোতে হবে। কারণ, আমরা জানি এর চেয়েও ভালো দল আমরা। অতীতে কী হয়েছে, যেগুলো মুছে ফেলতে আমরা অনুশীলন করব না। আমাদের কালকের খেলার ওপর ফোকাস করতে হবে।’
মিরপুরে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। একই মাঠে ২১ ও ২৩ অক্টোবর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে খেলবে দুই দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করলেই বাংলাদেশ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে উঠবে।