শিরোনাম দেখার পর অবশ্য আর বেশি কিছু বলার থাকছে না। বিশ্বকাপ থেকে বয়ে আনা ব্যর্থতা দেশেও বাংলাদেশকে তাড়া করছে ভালোভাবে। নতুন দিন, নতুন ম্যাচ হলেও তাইতো ফলটা অপরিবর্তিত। আরেকটি হারে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই হারল বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচের মতো আজও টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশের অধিনায়কের সিদ্ধান্তের সুবিচার করতে পারেননি তাঁর ব্যাটাররা। ২০ ওভার খেলে পাকিস্তানকে ১০৯ রানের লক্ষ্য দেওয়া তো সে কথাই বলছে। প্রথম ম্যাচে তাও বোলাররা শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াইয়ে রেখেছিলেন। শেষ ওভারের প্রথম বলে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেছিলেন শাদাব খান। আজ সেটাও হলো না। ১১ বল আর ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের সঙ্গে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের দেওয়া ছোট লক্ষ্যটা তাড়া করতে আজও অবশ্য শুরুতে উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। দলকে ১২ রানে আর নিজের ব্যক্তিগত ১ রানে ফিরে যান বাবর আজম। আগের ম্যাচের তাসকিন আহমেদের বলে আউটাকেই এদিন ‘কার্বন কপি’ বানিয়ে আউট হন পাকিস্তান অধিনায়ক।
এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান আর ফখর জামানের ব্যাটে ছড়ে নিরাপদ রাস্তায় হাঁটে পাকিস্তান। দুজনের ব্যাটিং মোস্তাফিজ-তাসকিনদের যেমন হতাশা বাড়িয়েছে পাকিস্তানকে এগিয়ে দিয়েছে সিরিজ জয়ের পথে। আগের দিন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে শেষ ওভারে বোলিংয়ে এনে সমালোচনার মুখে পড়ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। আজ অবশ্য সে পথে আর হাঁটেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিপ্লবকে বোলিংয়ে আনেন ইনিংসের অষ্টম ওভারে।
পাকিস্তানের আর যে একটি উইকেট পড়েছে সেটিই নিয়েছেন বিপ্লব। ৪৫ বলে ৩৯ রান রিজওয়ান ফেরান তিনি। ততক্ষণে অবশ্য পাকিস্তানের জয় প্রায় নিশ্চিত। তবে উইকেটের ঘরে অবশ্য একের জায়গায় দুটিও হতে পারত বিপ্লবের। ডিপ মিড উইকেটে ফখর জামানের ক্যাচ ছাড়েন সাইফ হাসান। হাতের মধ্যে থাকা ম্যাচটা সেই ফখরই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করে অপরাজিত থাকেন ৫৭ রানে।
পাকিস্তানের জয় অবশ্য অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস শেষে। বিশ্বকাপ থেকেই ব্যাটিংয়ে খাবি খাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহরা। আরেকবার সেটি বজায় রাখেন তাঁরা। এই সিরিজ নতুনের জয়গান গেয়ে ডাক পাওয়া সাইফ হাসান-নাজমুল শান্তরাও ব্যাটিংয়ে ভাগ্য ফেরাতে পারেননি। সাইফ-নাঈমদের ব্যর্থতার ভিড়ে আলো জ্বালাতে গিয়ে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি শান্ত। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংসটি এসেছে তাঁর ব্যাট থেকেই।
এই ম্যাচে একবারই ভালো একটা স্কোরের আশা করেছিল বাংলাদেশ। সেটা শান্তর সঙ্গে আরেক বাঁহাতি আফিফ হোসেনের জুটিতে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজনের ৪৭ রানের উইকেটে সাবলীল জুটিটাই সেই স্বপ্ন দেখায়। তবে স্বপ্নটা সেই পর্যন্তই। মাথায় ভূত চেপে বসা রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করে ২০ রানে আউট হয়ে স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটিয়ে বিদায় নেন আফিফ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ পাকিস্তানের নাগালেই রাখেন বাংলাদেশ ব্যাটাররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৮/৭
শান্ত ৪০, আফিফ ২০
শাহিন ২/১৫, শাদাব ২/২২
পাকিস্তান: ১৮.১ ওভারে ১০৯/২
ফখর ৫৭ *, রিজওয়ান ৩৯
মোস্তাফিজ ১/১২, বিপ্লব ১/৩০
ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: পাকিস্তান ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে