হারারে টেস্টের প্রথম দুই দিনে এক তাইজুল ইসলাম ছাড়া খুঁজে পাওয়া গেল না বাংলাদেশের আর কাউকে। বোলিংয়ে তাঁর একা লড়াইয়ের পরও সফরকারীদের ব্যাটিং ব্যর্থতা আড়াল করার কোনো সুযোগই নেই। বাংলাদেশের ব্যাটাররা চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও ব্যতিক্রম ছিল জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসে যেন প্রতিপক্ষকে ব্যাটিং শিখিয়ে ছাড়ল স্বাগতিক ব্যাটাররা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ১৪০ রানে জবাবে জিম্বাবুয়ে থেমেছে ৪১০ রানে। ইনোসেন্ট কাইয়া একাই করেন ১৪০ রান। তাঁর এই ইনিংসটাই বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য লজ্জার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকল। এই ওপেনারের প্রতিটা শট যেন ছিল বাংলাদেশের ব্যাটারদের মুখে একেকটা চপেটাঘাত। কাইয়া দেখালেন হারারের এই উইকেটে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়। ২২৭ বলে ১৭ বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের অপেক্ষা দীর্ঘ করেছেন কাইয়া।
ওয়েসলে মাধেভেরেও বাংলাদেশকে কম ভোগাননি। সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল তাঁর সামনেও। কিন্তু জিম্বাবুয়ে শেষ ২৮ রানে ৫ উইকেট হারানোয় সঙ্গী খুঁজে পাননি মাধেভেরে। অবস্থাদৃষ্টে তাঁর ৭৭ রানের ইনিংসটাও যেন সেঞ্চুরি সমতূল্যই। জিম্বাবুয়ের ইনিংস অবদান আছে ক্রেইগ আরভিন ও ব্রায়ান বেনেটেরও। তাঁদের ব্যাট থেকে আসে ৬০ ও ৫৯ রান। ৪২ রান করে বেন কারানও দলের সংগ্রহে অবদান রেখেছেন।
স্বাগতিকদের ১ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটির ইনিংসে বল হাতে একা ভয় দেখিয়েছেন তাইজুল। ৭ উইকেট নিয়ে এই বাঁহাতি স্পিনার যেন তাঁর অভিজ্ঞতার স্বাক্ষরই রাখলেন। বেনেটকে দিয়ে শুরু করা তাইজুল নিজের শেষ শিকার বানিয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানিকে। ৭ উইকেট নেওয়ার পথে খরচ করেন ১৩৮ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটা তাইজুলের ১৯তম ফাইফার। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাইফারের মালিক এখন তিনি। ১৯ বার ফাইফার নিয়ে এত দিন রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান। এবার পাশে পেলেন তাইজুলকে।
দ্বিতীয় ইনিংসেও যে বাংলাদেশের জন্য খারাপ কিছুই অপেক্ষা করছে সেটা বোঝা গেল শুরুতেই। ২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামা অতিথিরা দলীয় ২২ রানেই প্রথম উইকেট হারায়। রিচার্ড এনরাভার বলে বেনেটের হাতে ধরা পড়েন সাদমান ইসলাম। মুমিনুল হক ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাটে দিনের বাকি অংশ নির্বিঘ্নেই পার করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষে ১ উইকেট হারিয়ে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪০ রান। জয় ২১ ও মুমিনুল ৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নামবেন। জিম্বাবুয়ের চেয়ে এখনো ২৩০ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।