আগেই সিরিজ হাতছাড়া করা বাংলাদেশের সামনে আজ একমাত্র লক্ষ্য ছিল ধবলধোলাই এড়ানো। তবে এদিনও ভাগ্য বদলাতে পারল না স্বাগতিকেরা। আরও সহজভাবে বলতে গেলে, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ন্যূনতম লড়াই করতে পারেনি তাওহীদ হৃদয়ের দল। ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের সঙ্গী হয়েছে ৭ উইকেটের হার।
প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার শেষ ম্যাচ জিতে বাংলাদেশকে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা দিল মিচেল মার্শের দল। ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবগুলো ম্যাচ জিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে রীতিমতো প্রতিশোধ নিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ সফরে বাজে শুরুর পর দারুণ স্মৃতি নিয়ে ফিরছে অতিথিরা।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৩১ রানের পুঁজি নিয়ে ৪ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার করা ১৯৬ রানের জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৮৯ রানে। এক ম্যাচ পরই আবার সেই চেনা ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগতে হলো। এ যাত্রায় মাত্র ১০৯ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। হৃদয় ব্যাট হাতে না দাঁড়ালে তো বড় ধরনের লজ্জাই পেতে হতো বাংলাদেশকে। ইনিংসে অধিনায়কের অবদান ৬১ রান। তিনটি করে চার ও ছক্কায় সাজানো তাঁর ৫১ বলের ইনিংস।
১৬ রান করেন রিশাদ। বাকিরা প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন টেলিফোন ডিজিটে। বাংলাদেশকে অল্প রানে থামানোর মূল নায়ক স্পেনসার জনসন। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান খরচায় তাঁর শিকার ২ উইকেট। সমান দুটি করে উইকেট নিতে নাথান এলিস ২১ ও অ্যাডাম জাম্পা দেন ২২ রান। বাংলাদেশের ইনিংসের পরই ম্যাচের ভবিষ্যত একরকম নির্ধারণ হয়ে যায়। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে আনুষ্ঠিকতা সারেন মার্শ। যে পিচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা খাবি খেয়েছে, সে পিচেই চার-ছক্কার ফুরঝুরি ছুটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ম্যাচটা জিতে নিয়েছে মাত্র ১১ ওভারেই।
দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে মার্শ যখন ফিরছিলেন, তখন এই ওপেনার নামের পাশে শোভা পাচ্ছিল ৬০ রানের ইনিংস। ২৮ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো তাঁর ২১৪ স্ট্রাইকরেটের ইনিংস। যেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের দেখালেন, টি-টোয়েন্টিতে এভাবেই ব্যাট চালাতে হয়। অধিনায়ক ব্যাটিং তাণ্ডব চালানোয় বাকিদের ওপর কোনো চাপই ছিল না। ইংলিস ১৭ ও কুপার কনোলি এনে দেন ১৫ রান। টিম ডেভিড ১২ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। শরীফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার পতন হওয়া উইকেট তিনটি ভাগাভাগি করে নেন।