জিতলেই সরাসরি ফাইনালের টিকিট—আজ কলম্বোর প্রেমাদাসায় জাফনা কিংস-গল গ্যালান্টস প্রথম কোয়ালিফায়ারের সমীকরণটা ছিল এমনই। তাওহীদ হৃদয় জ্বলে উঠলেন প্রয়োজনের সময়ই। ঝোড়ো ইনিংসে জাফনা কিংসকে তুললেন ফাইনালে। জাফনার এই আনন্দে শামিল হয়েছেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও, যাঁর কাছ থেকে ম্যাচের মাঝে টোটকা নিয়েছিলেন হৃদয়।
হৃদয়ের ২১ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে জাফনা কিংস পেয়েছে ১৪ রানের জয়। গল গ্যালান্টসকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যখন সম্মুখীন হয়েছেন, তখন এসেছে সাকিবের প্রসঙ্গ। ইনিংস বিরতিতে সাকিব বারবার শ্যাডো করে কী দেখাচ্ছিলেন, সেটা হৃদয়ের কাছে জানতে চেয়েছেন সংবাদমাধ্যমকর্মীরা। কলম্বোর প্রেমাদাসায় জয়ের পর হৃদয় বলেন, ‘একটা জিনিস জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি (সাকিব)। আমিও সেটা বলার চেষ্টা করেছি। ব্যাটার হিসেবে সেহেতু ব্যাটিংয়ের ব্যাপারে আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। আমিও তার সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং আমারও একটা শট ছিল, যেটা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম।’
ঝোড়ো ইনিংস খেলে জাফনাকে ফাইনালের টিকিট এনে দেওয়ার পর প্রেমাদাসায় দর্শকদের অটোগ্রাফ দিতে দেখা গেছে হৃদয়কে। শুধু হৃদয়ই নন, বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সাকিব-মেহেদী হাসান মিরাজ-মোস্তাফিজুর রহমানরা এখন নিয়মিত খেলছেন। যাঁদের মধ্যে মিরাজ এবার এলপিএলে গল গ্যালান্টসের হয়ে চার ম্যাচ খেলে তিনি চলে গেছেন অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে।
বিদেশের মাঠে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ব অনুভব করেন হৃদয়। জাফনার ১৪ রানে জয়ের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন,‘অবশ্যই আমরা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করি। আপনারাও বাংলাদেশের প্রতিনিধি।কারণ, এখানে বাংলাদেশের হয়ে আপনারাও এসেছেন। আমাদের কেউ যখন ভালো করে, তখন অবশ্যই আপনাদের ভালো লাগা কাজ করে। আমি জানি শুধু আপনারা নন, সবাই চান যে আমাদের যে খেলোয়াড়েরা আছে, তারা সবাই যেন ভালো খেলে।’
জাফনা কিংসের হয়ে এবারের এলপিএলে চার ম্যাচে হৃদয় করেছেন ১৪১ রান। গড় ও স্ট্রাইকরেট ১৪১ ও ২১৩.৬৩। মেরেছেন ৭ চার ও ১১ ছক্কা। যার মধ্যে আজ প্রথম কোয়ালিফায়ারে ২১ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন বলেই জাফনা স্কোরবোর্ডে ২৪২ রান জমা করে। এখন কি বাংলাদেশের চেয়ে শ্রীলঙ্কায় ছক্কা মারা সহজ—এই প্রশ্নের উত্তরে হৃদয় বলেন, ‘এখন গত ১-২ বছরে যদি দেখেন, বাংলাদেশের উইকেটগুলোও ভালো ছিল। তবে শ্রীলঙ্কান উইকেটে এই মুহূর্তে যেটা মনে হচ্ছে যে প্রত্যেকটা ম্যাচে ২০০, ২০০-এর বেশি রান হচ্ছে। এখানে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের যে ব্যাপার আছে, সেজন্য ২০০-এর বেশি রান করা আরও সহজ হচ্ছে।’
টস হেরে আজ আগে ব্যাটিং পেয়ে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২৪২ রান করে জাফনা। কামিল মিশারা ৫৫ বলে ২ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটরক্ষক হিসেবে দুই ক্যাচ ধরে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। হৃদয় ২১ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। মেরেছেন ২ চার ও ৫ ছক্কা। সাকিব ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পেলেও বোলিংয়ে ৩ ওভারে ৩৬ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট।