নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয়বার খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সাদা বলের আইসিসির আরও এক টুর্নামেন্ট ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় না বললেই চলে। এখন পর্যন্ত একবারই ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি-নাহিদা আক্তাররা।
২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে সবশেষ আয়োজিত ওয়ানডে বিশ্বকাপেই শুধু খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ। আইসিসির এই ইভেন্টে জ্যোতিদের একমাত্র জয় এসেছে হ্যামিল্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ৯ রানের সেই জয়ের ম্যাচে দুই টপ অর্ডার ব্যাটার শারমিন আকতার (৪৪) ও ফারজানা হক পিংকি (৭১) দারুণ খেলেছিলেন। এবার যখন বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে, তখন অধিনায়ক জ্যোতি পুরোনো স্মৃতিচারণ করেছেন। আইসিসিতে এক কলামে তিনি লিখেছেন, ‘তিন বছর আগে নিউজিল্যান্ডে আমাদের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল অন্য রকম। আমরা গতবার ইতিহাস গড়েছিলাম। পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছিলাম। সেদিন আমাদের সর্বোচ্চ রান করেছিল ফারজানা হক পিংকি। শারমিন আক্তারও তিন নম্বরে নেমে ভালো খেলেছিল।’
ভারত-শ্রীলঙ্কায় হাইব্রিড মডেলে হতে যাচ্ছে এবারের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড—এই আট দল নিয়ে রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে হবে ২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ। নিজেদের দ্বিতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে জ্যোতি বেশ রোমাঞ্চিত। আইসিসির কলামে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের দ্বিতীয় আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছি। আমরা নিশ্চিত যে দারুণ একটা টুর্নামেন্ট হবে এটা। আমরা বেশ উজ্জীবিত। নিজেদের সেরাটা দিতে চাই।’
২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত নারী ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ শেষ করেছিল সাত নম্বরে থেকে। বাংলাদেশকে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে হয়েছে বাছাইপর্ব উতরে। পাকিস্তানে এ বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্ব উতরে মূল পর্বের টিকিট কাটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সেই টুর্নামেন্টে স্কটল্যান্ডের ক্যাথরিন ব্রাইস সর্বোচ্চ ২৯৩ রান করেছিলেন। দুই ও তিনে থাকা শারমিন ও জ্যোতির ব্যাট থেকে এসেছিল ২৬৬ ও ২৪১ রান। বাংলাদেশের দুই স্পিনার নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান নিয়েছিলেন ছয়টি করে উইকেট।
জ্যোতির আশা, ভারত-শ্রীলঙ্কায় হতে যাওয়া হাইব্রিড মডেলের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দারুণ কিছু করবে। বাংলাদেশ অধিনায়ক আইসিসির কলামে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানে নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব যে আমরা উতরে গিয়েছিলাম, তাতে শারমিনের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। স্পিনাররাও দারুণ করেছিল। আশা করি, ভারত ও শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনেও স্পিনাররা দারুণ খেলবে। নাহিদা আক্তার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আমাদের প্রধান উইকেট শিকারি বোলার। দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার।’
প্রথম রাউন্ডের ২৮ ম্যাচ, দুই সেমিফাইনাল, ফাইনালসহ টুর্নামেন্টের ৩১টি ম্যাচ হবে এবারের নারী ওয়ানডে স্টেডিয়ামে। কলম্বো ও ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ইন্দোরের হোলকার, গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া, বিশাখাপত্তনমের ওয়াই এস রাজাশেখর রেড্ডি স্টেডিয়ামে হবে আইসিসির এই ইভেন্ট। সবশেষ ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।