বাংলাদেশ দল পঞ্চম দিনে ঝুঁকি নেবে না—সালমান আলী আঘা গতকাল চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন কথাই বলেছিলেন। কিন্তু সেই কথাকে ভুল প্রমাণ করল বাংলাদেশ। প্রথম তিন-চার দিনে যে গতিতে রান হয়েছে, তার চেয়ে দ্রুত গতিতে আজ পঞ্চম দিনে রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ আজ মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান যোগ করেছে। শেষ দিনের হিসেব করলে স্বাগতিকদের রানরেট ৪.৪। নবম ব্যাটার হিসেবে তাসকিন আহমেদ যখন আউট হলেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ৭০.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪০ রান। তখনই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। অথচ স্বাগতিকদের লিড ২৬৭ রানের।
সাধারণত অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের অধিনায়কেরা ৩০০ রানের কম লিড থাকলে ৮-৯ উইকেট পড়ার পর ইনিংস ঘোষণা করেন। আজ সেটাই করলেন শান্ত। আজ ১০৪ রানে জয়ের পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে এলে জিজ্ঞেস করা হয়েছে এমন প্রশ্ন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘প্রথমত অস্ট্রেলিয়া-ভারত-ইংল্যান্ডের মতো দল আমরা হয়ে উঠিনি। আমার মতে যে ভালো পাঁচ বোলার আছে, সেজন্য এই সাহসগুলো করতে পেরেছি। তবে আমার মনে হয় বোলিং ইউনিটে আরও উন্নতির জায়গা আছে। এই জায়গাটাতে যদি আরও একটু ধারাবাহিক হতে পারি, তাহলে এমন সিদ্ধান্ত আমরা ভবিষ্যতেও নিতে পারব।’
প্রথম ইনিংসে রানা ২১ ওভারে ১০৪ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। বাংলাদেশের গতিতারকাকে পাকিস্তানি ব্যাটাররা বেশ সাবলীলভাবেই খেলেছেন। সেই রানা জ্বলে উঠলেন মোক্ষম সময়ে। শান মাসুদ, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নোমান আলী, শাহিন শাহ আফ্রিদি—এই পাঁচ ব্যাটারকে ফিরিয়ে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ফাইফারের কীর্তি গড়লেন রানা। যেখানে শাকিলকে ফেরানোর আগে রানাকে অফস্টাম্পের বাইরে বোলিংয়ের যে টোটকা দিয়েছেন, সেটা কাজে লেগেছে। আর রানার গতিশীল বল দেখে সেটা ছাড়তে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। শেষটা রানা টেনেছেন শাহিন শাহ আফ্রিদিকে বাউন্সারে পরাস্ত করে।
রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ের পেছনে মুশফিকুর রহিমের কৃতিত্ব অনেক বেশি বলে মনে করেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘রানার বিষয়ে যেটা হয়েছে যে সে সময়টা আমি বলেছিলাম যেহেতু উইকেটটা একটু শুষ্কও ছিল যে যত জোরে বোলিং করবে করবে, ততই ভালো। বলের কন্ডিশনটাও ভালো ছিল এবং লাইনটা কীরকম হতে পারে সে বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে এবং সে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে। এখানে একটু মুশফিক ভাইকেও কৃতিত্ব দিতে হবে কারণ, তিনি রানার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করেছিলেন। মুশফিক ভাইয়ের মতো মানুষ মাঠে থাকলে এটুকু উপকার হয়ে যায়।’
টেস্টে ৯ সেঞ্চুরির বিপরীতে ৬ ফিফটি করেছেন শান্ত। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে তিনি আছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, জর্জ হেডলির মতো কিংবদন্তিদের তালিকায়। আজ দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করলে সুনীল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নারের পর চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে তিন টেস্টে উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়তেন শান্ত। কিন্তু নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউ হওয়ায় ৮৭ রানে থেমে যায় শান্তর ইনিংস।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি না পেলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে শান্তর হাতে। করেছেন ১৮৮ রান। তবে কিংবদন্তিদের সঙ্গে তুলনা তাঁর একদমই পছন্দ না। আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘প্রথমে আপনি যে দুইটা নামের (স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, জর্জ হেডলি) কথা বলেছেন, এই নাম আমার সাথে যায় না একদম। মাফ করে দেন আমাকে। এটা আসলে হয় না। ব্যাটিংটা আমি উপভোগ করি। অধিনায়কের কাজ টস করা, সঠিক জায়গায় ফিল্ডার বসানো, বোলিং পরিবর্তন করা। কিন্তু ব্যাটিংয়ের সময় আমার দায়িত্ব শুধু রান করা। সেভাবেই চিন্তা করতে পছন্দ করি।’