ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরশু যেভাবে বাংলাদেশ সুপার ওভারে হেরেছে, আরও অনেক স্বাগতিক দর্শকের মতো মানতে পারেননি না ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিওতে শ্লেষাত্মক কণ্ঠে বলছিলেন, প্রতিপক্ষের বোলার আকিল হোসেন অতিরিক্ত রান দিয়ে এত চেষ্টা করলেন বাংলাদেশকে জেতাতে, তবু পারল না।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলার ৩৯ বছর পর ৮১৪তম ম্যাচে এসে প্রথম ‘টাই’ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। আইসিসির পূর্ণ সদস্যের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই সবার শেষে টাইয়ের দেখা পেয়েছে। ম্যাচ হারের ব্যাখ্যায় যতই বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ অনভিজ্ঞতার কথা বলুন, প্রথমে আসবে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত। ক্রিকেটের মাঠের সিদ্ধান্ত অধিকাংশই কোচ ও অধিনায়কের মস্তিষ্কপ্রসূত। টাই ম্যাচে হারের পর মিরাজের সঙ্গে প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কাঠগড়ায় ওঠার কথা থাকলেও সমালোচনার তির বেশি ছুটছে দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহম্মদ সালাহ উদ্দীনের দিকে।
দলের সিদ্ধান্তে সালাহ উদ্দীনের প্রভাব কতটা, না বললেও চলছে। তো অভিনেত্রীর কথায় ফেরা যাক, বাংলাদেশকে ১১ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে ক্যারিবীয়রা দলকে জেতানোর দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন বাঁহাতি স্পিনার আকিলকে। প্রথম দুটি বলেই ওয়াইড ও নোর সঙ্গে দৌড়ে রান নেওয়াসহ মোট ৪ রান পাওয়ার পরও ৬ বলে ৭ রান করতে পারেনি বাংলাদেশ । আকিল যেভাবে শুরুতে স্নায়ুচাপে ভুগে অতিরিক্ত রান বিলিয়েছেন, বাংলাদেশের ব্যাটাররা সুযোগটা নিতে পারেননি। উল্টো আকিলকে ছন্দে ফেরার সুযোগ দিয়েছেন। শুধু রানিং বিটুইন দ্য উইকেট করেও প্রয়োজনীয় রানটা তুলে ফেলা সম্ভব ছিল। সেখানে সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত যেভাবে খেললেন, তাঁদের ক্রিকেটীয় দক্ষতা নিয়ে দর্শক কেন প্রশ্ন তুলবেন না!
দক্ষতা প্রমাণের আগে দরকার ছিল সঠিক সিদ্ধান্তও। ‘ম্যাচ আপে’র নামে বাঁহাতি বোলারের বিপক্ষে বাঁহাতি সৌম্য-শান্তকে নামানোর সিদ্ধান্ত কতটা ভুল, তা তো বোঝাই গেল। অথচ আকিলকে একই ম্যাচে তুলোধুনা করেছিলেন রিশাদ হোসেন। বাংলাদেশের ইনিংসে আকিলের করা শেষ ওভারে রিশাদ ১ ছক্কা ও ১ চারের সঙ্গে ১৬ রান তুলে দলকে এনে দিয়েছিলেন লড়াইয়ের স্কোর। সেই রিশাদের ওপর এতটুকু ভরসা করেননি বাংলাদেশ দলের কোচ ও অধিনায়ক।
সুপার ওভারে ব্যাট হাতে রিশাদকে না দেখে শুধু ‘স্বস্তি’ নয়, যথেষ্ট অবাকই হয়েছেন আকিল। সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিবীয় স্পিনার বলেছেন, ‘অবাকই হয়েছিলাম। যে ম্যাচে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, ১৪ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিল, সে নামলই না সুপার ওভারে। ছোট দিকের সীমানার দিকে যে দুটি ছক্কা মেরেছিল, সেখানেই সে ফের মারতে পারত।’ আকিল ঠিকই বলেছেন, যে ব্যাটার ১৪ বলে অপরাজিত ৩৯ করতে পারেন, তাঁর পক্ষে কি ৬ বলে ৭ রানের সমীকরণ মেলানো কঠিন কিছু?
সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা দক্ষতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে ছিল বলেই ম্যাচটা তারা জিতেছে। মিরপুরের কালো ঘূর্ণি উইকেট দেখে আকিলকেই সেই পৃথিবীর অন্য প্রান্তের ক্যারিবীয় দ্বীপ থেকে উড়িয়ে এনেছে উইন্ডিজ। শুধু তা-ই নয়, ড্যারেন স্যামির নির্দেশে যেভাবে বোলিং ও ফিল্ড প্লেসিং হয়েছে, দুর্দান্ত। সৌম্য সরকারের আউট দেখুন, একেবারে সাজানো ফাঁদে ধরা পড়া। নেহাতই এক দ্বিপক্ষীয় সিরিজের টাই হওয়া ম্যাচ হলেও বাংলাদেশ যেভাবে হেরেছে, অনেক বছর পর এ ম্যাচে ফিরে তাকালে যে কেউ বলে উঠবে, ইশ...এভাবেও ম্যাচ হারা যায়!