ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। এরই মধ্যে ফুটবল ক্রিকেট—দুই বিভাগেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচ বাতিল হয়েছে; বিঘ্ন ঘটেছে খেলোয়াড়দের ভ্রমণেও। এবার পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার প্রভাব পড়ল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবারের টুর্নামেন্ট দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাশাপাশি ছয় ভেন্যুর পরিবর্তে টুর্নামেন্ট সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে মাত্র দুই শহরে।
প্রথমবারের মতো এবারের পিএসএলে অংশ নেবে আটটি দল। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল লাহোর, মুলতান, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার এবং ফয়সালাবাদে। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাহোর এবং করাচিতে পিএসএল আয়োজন করবে পিসিবি—এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় চলাফেরা সীমিত করতেই ভেন্যু কমানোর পাশাপাশি দর্শশূন্য গ্যালারিতে পিএসএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে লাহোরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই অনুষ্ঠানও বাতিল করেছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।
নাকভি বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনা করে এবং আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পিএসএল আগের সূচি অনুযায়ীই চলবে। তবে আমরা একদিকে মানুষকে চলাচল সীমিত রাখতে বলব, আর অন্যদিকে প্রতিদিন স্টেডিয়ামে ৩০ হাজার দর্শককে ঢুকতে দেব—এটা হতে পারে না। তাই এই সংকট চলাকালীন ম্যাচগুলোতে দর্শক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।’
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে গ্যালারিতে দর্শক প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতে পারে বরে জানিয়েছেন নাকভি। তবে তা নির্ভর করবে পশ্চিম এশিয়ার সংকট—বিশেষ করে ইরান পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।
এই প্রসঙ্গে নাকভি বলেন, ‘যেহেতু দর্শক থাকছে না, তাই বিভিন্ন শহরে যাওয়ারও কোনো প্রয়োজন ছিল না। আর আমাদের চলাচলও সীমিত রাখতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সম্পদের অপচয় না হয়। হয়তো ১০ দিন বা ১৫ দিনের মধ্যে এই সংকটের সমাধান হবে। তখন আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করব। যতক্ষণ এই সংকট চলছে, আমরা দর্শক ছাড়াই খেলা চালাব। সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল, কিন্তু এর বিকল্প ছিল না।’