হোম > খেলা > ক্রিকেট

বয়স বাড়ছে স্টার্কের, বাড়ছে ধারও

কারিমুল ইসলাম, ঢাকা

অ্যাশেজে ৩১ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা মিচেল স্টার্ক

এই তো ৩০ জানুয়ারি মিচেল স্টার্ক পা দেবেন ৩৬-এ। অথচ দেখে বোঝার উপায় আছে কি! এমন বয়সে ফাস্ট বোলাররা সাধারণত ভেঙে পড়েন, হাল ছেড়ে দেন ক্যারিয়ার। কিন্তু স্টার্ককে দেখে মনে হবে, তিনি যেন চিরসবুজ। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়িয়ে যাচ্ছেন ধার। ব্যাটারদের নাচাচ্ছেন তাঁর শুরুর দিনের মতো করেই। এখনো তাঁর একেকটা ডেলিভারি যেন আগুনের গোলা। আর সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে বেন স্টোকসের ইংল্যান্ড।

২০২৫-২৬ অ্যাশেজে ৩১ উইকেট নিয়ে স্টার্ক বাগিয়ে নিয়েছেন সিরিজসেরার পুরস্কার। এই বয়সে এমন ইর্ষণীয় পারফরম্যান্সের পর বাহবা পাবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু এর পেছনে আছে পরিশ্রম, নিজেকে প্রতিনিয়ত ভেঙে গড়ার গল্প।

২০২০-২১ বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারায় ভারত। সে সিরিজের চার ম্যাচের আট ইনিংস বোলিং করে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন স্টার্ক। বোলিং গড় ছিল ৪০ এর বেশি। এমন বোলিংয়ের পর টেস্ট ক্রিকেটে স্টার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার ছাপ পড়ে যায়। নিন্দুকেরা তো এই সংস্করণে তাঁর শেষ দেখে ফেলেছিল। কিন্তু সমালোচনায় ভেঙে না পড়ে বরং নিজের ভেতর শক্তির সঞ্চার করেন, উন্নতির জন্য সকল চেষ্টাই চালিয়ে যান। নিজেকে বদলে ফেলার সেই চেষ্টায় বেশ সফল স্টার্ক। পরিসংখ্যান বলছে সে কথাই।

গত ৫ বছরে টেস্টে স্টার্কের ঝুলিতে উঠেছে ১৭৮ উইকেট; গড় ২৫। এই সময়ে নতুন করে তিনি আলোচনায় এনেছেন থ্রি-কোয়ার্টার সিম ডেলিভারি। ওভার দ্য উইকেটে ডানহাতি ব্যাটারদের জন্য খানিকটা বাইরে থাকে এই ডেলিভারি। যা অনেক সময় স্লিপে থাকা ফিল্ডারদের হাতে ক্যাচ তুলে দিতে সহায়তা করে। গত ৩ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, স্লিপে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ৯-১০ শতাংশ বেড়ে গেছে স্টার্কের।

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পেসারদের গতিতে কিছুটা ভাটা পড়ে। কিন্তু স্টার্কের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। গতির দাপট অব্যাহত রাখতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অ্যাশেজের শেষ টেস্টের দুই ইনিংসে ৫ উইকেট নেন স্টার্ক। এই ম্যাচের চতুর্থ দিন আলাদাভাবে সবার নজর কাড়েন। এদিন দেখা যায়, সিরিজে স্টার্কের গড় গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৪২ কিলোমিটার। প্রায় ৩৬ বছর বয়সে, তীব্র গরমে এত গতিতে বল করা স্টার্কের অসাধারণ ফিটনেস এবং মানসিক শক্তির প্রমাণই দিচ্ছে। সদ্য শেষ হওয়া অ্যাশেজে তাঁর এমন অদম্য মানসিকতাই ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্যায়ে এসেও নিজের প্রতি স্টার্কের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ার যথার্থ কারণ আছে। টেস্টে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ২৭ বার উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে সবশেষে অ্যাশেজেই চারবার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। গত জুলাইয়ে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০০তম টেস্ট খেলতে নামেন স্টার্ক। সে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট তুলে নেন। যেখানে প্রথম ওভারেই তিন ব্যাটারকে ফেরান তিনি। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে প্রথম ওভারেই উইকেট পাওয়া আরও বেশি তাতিয়ে দিচ্ছে স্টার্ককে। যেটা ইনিংসজুড়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের সামনে এই পেসারকে দ্বিগুণ আগ্রাসী রূপ ধারণ করতে সহায়তা করছে। এই সংস্করণের প্রথম ওভারেই সর্বোচ্চ সংখ্যকবার উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকার দুইয়ে আছেন স্টার্ক। ২৯ বার প্রথম ওভারে উইকেট নিয়ে তাঁর ওপরে আছেন কেবল ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসন।

৩৬ এর অপেক্ষায় থাকা স্টার্কের টেস্ট ক্যারিয়ার কোথায় গিয়ে থামে সেটা এখনই বলার সুযোগ নেই। তবে বুট ঝুলিয়ে রাখার সময় নিশ্চিতভাবেই কিংবদন্তিদের কাতারে থাকবেন তিনি। ১০৫ টেস্টের ২০২ ইনিংসে তাঁর শিকার ৪৩৩ উইকেট। বাঁ হাতি পেসারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেট স্টার্কের। কিছুদিন আগেই পেছনে ফেলেছেন ৪১৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করা পাকিস্তান কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরামকে। এখন স্টার্কের সামনে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পালা।

ভারত ইস্যুতে দেশের ক্রিকেটে ‘গৃহবিবাদ’

বয়সী অস্ট্রেলিয়ার ছিল বেশি অভিজ্ঞতাও

চেহারায় খেলা হয় না, খেলা হয় মাঠে: ম্যাচ হেরে রংপুরের কোচ

হঠাৎ কেন বিপিএল ছাড়ার হুমকি দিল ঢাকা ক্যাপিটালস

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি, কী বলছেন হাসান মাহমুদ

আইসিসিকে বাংলাদেশের চিঠি পাঠানোর প্রশ্নে যা বলছে ভারতীয় বোর্ড

টানা ৬ হারের পর অবশেষে নোয়াখালীর জয়

আইসিসি থেকে বিসিবি বছরে আসলে কত টাকা পায়

বাংলাদেশ সিরিজের দল নিয়েই বিশ্বকাপ খেলবে আয়ারল্যান্ড

প্রথম বোলার হিসেবে বিপিএলে দুবার হ্যাটট্রিকের কীর্তি মৃত্যুঞ্জয়ের