টেস্ট ক্রিকেট থেকে মোহাম্মদ শামির অবসরে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী। অভিজ্ঞ এই পেসারকে আরেকটি সুযোগ না দেওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্বাচকদের একহাত নিলেন তিনি।
শুক্রবার রাতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন শামি। ভারতের হয়ে তিন বছরেরও বেশি সময় আগে শেষ টেস্ট খেলেছেন এই পেসার। তবে সাদা বলের ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন তিনি। শামির অবসরের পর শাস্ত্রীর আক্ষেপ, টেস্ট ক্রিকেটে ভারতকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার ছিল এই অভিজ্ঞ বোলারের।
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে শাস্ত্রী বলেন, ‘দেশের হয়ে এত ভালো খেলা একজন ক্রিকেটারকে বিদায় নিতে হচ্ছে, এটা দুঃখজনক। আমার মনে হয়েছিল, তার আরও ৩০ কিংবা ৪০টি উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য ছিল। গত ১২ মাসে তার খেলা উচিত ছিল। সম্ভবত টেস্ট বোলার হিসেবে তাকে দলে রাখা উচিত ছিল।’
শামির ফিটনেস নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও সমালোচনা করেছেন শাস্ত্রী। তাঁর মতে, জিমে ফিটনেস পরীক্ষার চেয়ে মাঠে বোলিং করার সক্ষমতাই একজন ক্রিকেটারের প্রকৃত ফিটনেসের প্রমাণ।
শাস্ত্রী বলেন, ‘মাঠে যদি ১০ কিংবা ১২ ওভার বোলিং করতে না পারেন, তাহলে জিমে ফিট থাকার কী লাভ? এখানে আপনার সামনে এমন একজন পরিশ্রমী বোলার আছে, যে দলের হয়ে একটানা বোলিং করে যাচ্ছে। তাই তাকে আরেকটি সুযোগ না দেওয়ায় আমি কিছুটা হতাশ।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে শামির পারফরম্যান্সের কথাও তুলে ধরেছেন শাস্ত্রী। ফিটনেস নিয়ে সমালোচনার পরও নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন এই পেসার।
এই প্রসঙ্গে শাস্ত্রী বলেন, ‘শামির ফিটনেস ভালো নয়, এমন অনেক সংবাদ প্রতিবেদন আমি দেখেছি। কিন্তু সে বাংলার হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলেছে। ১৫ থেকে ২০ ওভার বোলিং করেছে। নিজের ফিটনেস প্রমাণ করতে একজন ক্রিকেটারকে আর কী করতে হবে? সে যদি ভালো ফর্মে থাকে এবং আইপিএলেও ভালো করে, আর আপনার অভিজ্ঞ কোনো বোলার হঠাৎ চোটে পড়ে, তখন তো অভিজ্ঞতার খোঁজ করবেন। অথচ আপনার হাতে তার মতো একজন খেলোয়াড় রয়েছে।’
নির্বাচকদের উপেক্ষার মধ্যেও পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করে গেছেন শামি। গত মৌসুমে সাতটি রঞ্জি ট্রফি ম্যাচে ৩৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তবে এই পারফরম্যান্সও টেস্ট দলে ফেরার জন্য যথেষ্ট হয়নি।