করাচি টেস্টে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ৫০৬ রান। আর এই টেস্ট বাঁচাতে চতুর্থ ইনিংসে তাদের খেলতে হবে ১৭২ ওভার। এদিকে টেস্ট ইতিহাসে ৪১৮ রানের বেশি তাড়া করে জেতার রেকর্ড নাই কোনো দলের। এত সমীকরণ মাথায় নিয়ে বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ানরা যা করে দেখিয়েছেন, এক কথায় বললে তা অবিশ্বাস্য!
পঞ্চম দিনের শেষ ওভারে পাকিস্তান যখন ব্যাটিং করছে, তখনো হাতে ৩ উইকেট। স্কোরবোর্ডে রান দেখাচ্ছে ৪৪৩। শেষ ওভারে নাথান লায়ন ৪ বল করার পরে ড্র মেনে নিয়েছে দুই দলই। কারণ পরের দুই বলে ২ উইকেট পড়লেও তো এই ম্যাচের ফল ড্র। টি-টোয়েন্টির এই যুগে টেস্টের আবেদন কেন আজও কমেনি, সেটি আরও একবার প্রমাণিত হলো করাচিতে।
শেষ কয়েক বছরে বেশ কটি রোমাঞ্চকর ড্র দেখেছে টেস্ট ক্রিকেট। গত জানুয়ারিতে অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্টের পঞ্চম দিনের লড়াই শেষে ড্র হয়েছিল। টেস্ট বাঁচিয়ে স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনের মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসার দৃশ্য তো এখনো টাটকা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে রোমাঞ্চকর এক ড্র উপহার দিয়েছিল ভারত। ২০১৯ সালে হেডিংলিতে টেস্ট ড্র করে রূপকথার জন্ম দিয়েছিল বেন স্টোকস। এসব ড্রয়ে যেন গত কয়েক বছর টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যও বেড়েছে। কিন্তু এখানে অন্যান্য দলের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বড্ড মলিন।
পরিসংখ্যান বলছে, টেস্টে ড্রয়ের দিক দিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দলের নাম বাংলাদেশ। বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পরের সময়টায় টেস্ট ড্রয়ের দিক দিয়ে তালিকার তলানিতে আছে। ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টেস্টে সবচেয়ে বেশি ড্র করেছে ইংল্যান্ড। ১৯ টেস্টের ৫টিতেই ড্র করেছে ইংলিশরা। এই সময়ে টেস্ট ড্রয়ের দিক দিয়ে ইংল্যান্ডের পরেই আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে। ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০-এ।
শেষ কয়েক বছরে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। টেস্ট ড্রয়ের হিসাবে সবার শেষেই আছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ১২৮ টেস্টের ৯৫টিতেই হেরেছে। অর্থাৎ মোট টেস্টের প্রায় ৭৫ শতাংশ ম্যাচেই হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। বেশির ভাগ সময়ে ফল নিজেদের দিকে আনতে না পারার কারণে ড্রয়ের রোমাঞ্চ খুব কমই স্পর্শ করতে পারে বাংলাদেশ।