মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন টিকে থাকলেন শেষ পর্যন্ত। তবে তাঁর অপরাজিত ফিফটি ঢাকা ক্যাপিটালসের কোনো কাজেই আসলো না। বাঁচা মরার ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের কাছে ১১ রানে হেরেছে তারা। এই হারে বিপিএল থেকে বিদায় নিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। অন্যদিকে ঢাকাকে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে প্লে অফে জায়গা করে নিল রংপুর।
এই জয়ে ৯ ম্যাচে রংপুরের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। আগেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস ও সিলেট টাইটানস। লিগ পর্ব থেকে সবার আগে বিদায় নেয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দ্বিতীয় দল হিসেবে লিগ পর্ব থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করল ঢাকা।
প্রথম ৮ ম্যাচে দুটি জয়ের দেখা পায় ঢাকা। প্লে অফের আশা টিকিয়ে রাখতে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচ দুটি জিততেই হত স্বাগতিকেদের। কিন্তু নবম ম্যাচে রংপুরের কাছে হেরেই সব আশা শেষ হলো ঢাকার।
রংপুরকে বড় পুঁজি এনে দেন ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয়। তাঁদের জোড়া ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান করে লিটন দাসের দল। ১৪.১ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে ১২৬ রান তুলেন মালান ও হৃদয়। ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৯ বলে ৭৮ রান এনে দেন মালান। হৃদয় ফেরেন ৬২ রানের ইনিংস খেলে। ৫ চার ও ৪ ছয়ে সাজানো তাঁর ৪৬ বলের ইনিংস। এছাড়া কাইল মায়ার্সের অবদান ২৪ রান। ঢাকার হয়ে ৪ ওভারে ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন। তাসকিন আহমেদ ও মারুফ মৃধা নেন একটি করে উইকেট।
বড় লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরু থেকেই রানের চাকা বেশ সচল রেখেছিল ঢাকা। ৬.১ ওভারে ৫৩ রান তোলে তারা। কিন্তু ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে মোহাম্মদ মিঠুনের দল। সেই চাপ সামলে মাঝের ওভারে রান রেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি ঢাকা। সাইফউদ্দীনের ঝোড়ো ব্যাটিং কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৩০ বলে ৫৮ রান করেন তিনি।
১৮ বলে ৩১ রান এনে দেন উসমান খান। শুরুতে তাঁর মারকুটে ব্যাটিংয়েই রংপুরের সঙ্গে পাল্লা দিতে পেরেছিল ঢাকা। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি এই পাকিস্তানি ওপেনার। ২৫ রান করতে ২৯ বল খেলেন মিঠুন। অধিনায়কের এমন ব্যাটিং-ই শেষ পর্যন্ত ঢাকার আক্ষেপ হয়ে থাকল। এছাড়া ১৪ বলে ২০ রান করেন ইমাদ ওয়াসিম। ১৭০ রানের বেশি করতে পারেনি ঢাকা। রংপুরের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন নাহিদ রানা। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দেন এই গতি তারকা। বিনিময়ে ৩ ব্যাটারকে ফেরান তিনি। ফাহিম আশরাফ ২ উইকেট নিলেও খরচ করেন ৪৩ রান।