সেমিফাইনালে যেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততেই হতো পাকিস্তানকে এবং জিততে হতো পরে ব্যাট করা শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে আটকে রেখে। কাল পাকিস্তান জিতলেও শ্রীলঙ্কাকে এই রানের মধ্যে আটকাতে পারেনি। তাই ৫ রানে জিতেও সেমিফাইনালে যেতে পারেনি পাকিস্তান। শেষ দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করা শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৮ রান। বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম ৪ বলে ২২ রান তুলে দাসুন শানাকা সমীকরণটাকে সহজ করে আনলেও শেষ ২ বলে রান নিতে ব্যর্থ লঙ্কানরা। তাতে ৫ রানে জয় পাকিস্তানের।
বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে না পারলেও শ্রীলঙ্কাকে বল আর রানের সমীকরণে নিয়ে আসার মূলে ছিলেন ওই শানাকাই। সাতে ব্যাটিংয়ে এসে ২টি চার ও ৮টি ছয়ে ৩১ বলে ৭৬ রান করে অপরাজিত থেকেছেন তিনি। তাঁর আগে পাভান রত্নায়েক ৩৭ বলে করেন ৫৮ রান।
এর আগে পাল্লেকেলেতে গতকাল টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২১২ রান করেছে পাকিস্তান। একাদশে তিন পরিবর্তনে দলের চিত্রটাই যেন বদলে ফেলে। ওপেনিংয়ে সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে আসেন ফখর জামান। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই আসে ৬৪ রান। ফারহানের একার সেখানে অবদান ৪০ রান।
সেই ধারা চলতে থাকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত। ফখর জামানের আউট হওয়ার মাধ্যমে ভাঙে ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। ৪২ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ রানে শেষ হয় ফখরের বিস্ফোরক ব্যাটিং। পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক তিনি। ৯৯ ছক্কায় টপকে গেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৯৫)।
ফখর না পারলেও ফারহান ঠিকই ৫৯ বলে তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর দুই সেঞ্চুরির দুটিই এসেছে এবারের বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপের এক আসরে দুই সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার তিনি। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তকমাটা এখন তাঁর দখলে। ২০১৪ বিশ্বকাপে ৩১৯ রান করেছিলেন বিরাট কোহলি। ভারতের সাবেক এই ব্যাটারকে পেছনে ফেলে ফারহান তুলেছেন ৩৮৩ রান। সেঞ্চুরির পরের বলেই অবশ্য থামে তাঁর ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ১০০ রানের ইনিংস।
এমন দারুণ শুরুর পরও শেষে গিয়ে একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা পাকিস্তানের। শেষ ৪ ওভারে ৩৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি তারা।