বিপিএলে আগের ৬ ইনিংসে শামীম হোসেন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। কিন্তু যখনই দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এল, তখন শামীমের ব্যাটও জ্বলে উঠল। সাকিব আল হাসানের শিকার হওয়ার আগে ৫১ বলে করেছেন ৭১ রান। তাঁর ইনিংসের সৌজন্যে বিপিএলের এলিমিনেটরে ফরচুন বরিশালকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
বরিশালের দেওয়া ১৭১ রানের লক্ষ্য ৩ বল হাতে রেখেই তাড়া করে রংপুর। যদিও প্রথম ওভারেই রানার খাতা খোলার আগে ওপেনার নাঈম শেখের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। দ্বিতীয় উইকেটে শামীম ও আরেক ওপেনার রনি তালুকদার ৬১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেন। পাওয়ার প্লেতে দুজনে তোলেন ৫৫ রান। দুটি করে চার-ছক্কায় ১৭ বলে ২৯ রান করে আউট হন রনি। এরপর নুরুল হাসান সোহান ১৮ রানে করে সাকিবের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।
রংপুরের ১৪০ রানে আউট হন শামীম। ৭১ রানের ইনিংসে ছিল চারটি করে চার-ছক্কা। ডোয়াইন ব্রাভো ও নিকোলাস পুরান ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বাকি কাজ সেরে ওঠেন দাসুন শানাকা ও শেখ মেহেদী। শানাকা ১৬ ও মেহেদী ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
বিপিএলে নিজের শততম ম্যাচে বরিশালের হয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন সাকিব। কামরুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদও নেন দুটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে বরিশালকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় রংপুর। শুরুতে রানের গতি ভালো থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেননি বরিশালের ব্যাটাররা। ওপেনিংয়ে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ ৪৮ বলে ৬৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন। উইকেট থাকা সত্ত্বেও বড় ঝড় তুলতে পারেননি ব্যাটাররা। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৬ রান তুলেছিল বরিশাল। ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ১৬ বলে করেছেন ১৮ রান।
ওয়ানডাউনে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে বরিশালকে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন মিরাজ। রিয়াদও হাত খুলে মারতে শুরু করলেন, কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ২১ বলে ৩৪ রান করে দাসুন শানাকার শিকার হন। দুজনের জুটিতে আসে ৪৬ বলে ৬৯ রান।
এরপর মিরাজকেও ফেরান শানাকা। ৬৯ রানের ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কা। শেষ পাঁচ ওভার করিম জানাত ও রাজাপক্ষে ব্যাটিং করলেও সেভাবে রান তুলতে পারেননি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজনে তোলেন ২৯ বলে ৪৪ রান।
রংপুরের হয়ে শানাকা ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। রাকিবুল হাসানের শিকার একটি।