টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আফগানিস্তান এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী ও সমীহ জাগানিয়া নাম। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বিশ্বের যেকোনো বড় দলকে ধরাশায়ী করার সামর্থ্য তারা বারবার দেখিয়েছে। তবে খেলা যখন টাই হয়ে সুপার ওভারে গড়ায়, তখনই খেই হারিয়ে ফেলেন মোহাম্মদ নবি-রশিদ খানরা। আহমেদাবাদে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারসহ টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনটি সুপার ওভার খেলে তিনটিতেই হারের মুখ দেখল আফগানরা।
আফগানিস্তানের এই সুপার ওভার অভিশাপের শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে ভারতের নয়ডাতে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। আইরিশদের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ১৪২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগানরা ১৪২ রানে থামলে ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে। কিন্তু ভাগ্যের লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ড বাজিমাত করে এবং আফগানরা প্রথমবার সুপার ওভারে পরাজয়ের স্বাদ পায়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা লড়াই। যেখানে একটি নয়, বরং দুটি সুপার ওভার হয়েছিল। ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের ২১২ রানের পাহাড়সম জবাবে আফগানিস্তান ২১২ করে। প্রথম সুপার ওভারে দুই দলই সমান ১৬ রান করলে ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। ভারতের ১১ রানের জবাবে নতি স্বীকার করে আফগানিস্তান। রবি বিষ্ণুইয়ের করা সেই ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিল তারা।
সবশেষ আজ আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ম্যাচটি টাই হয়। মূল ম্যাচে দুই ইনিংস মিলে হয়েছে ৩৭৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৭ রান করার পর আফগানিস্তানও থেমে যায় ১৮৭ রানে।
প্রথম সুপার ওভারে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানিস্তান করেছে ১৭ রান। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সংগ্রহ করে ১৭ রান, ফলে ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। দ্বিতীয় সুপার ওভারে আগে ব্যাটিং পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছে ২৩ রান। ২৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ৪ রানে পরাজিত হয় আফগানিস্তান।