দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা শেষে গত পরশু মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক সিরিজ জিততে কেবল এক পা দূরে বাংলাদেশ। আজ অস্ট্রেলিয়াকে হারালেই এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করবে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের করতে হবে ১৯২ রান।
১৯২ রান করতে যে বাংলাদেশ পূর্ণ ৫০ ওভার পাচ্ছে, ব্যাপারটা তা নয়। তাদের এই রান করতে হবে ৪১ ওভারে। কারণ, অস্ট্রেলিয়া যখন খেলা শুরু করে, তখন ৫০ ওভারের হিসেবেই খেলে। কিন্তু বেলা ২টা ৩৪ মিনিটে বৃষ্টি নামার পর আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকে খেলা। বৃষ্টির বাগড়ায় খেলা থেমে যাওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে করে ১৮৭ রান। এ কারণেই ডাকওয়ার্থ লুইস এন্ড স্টার্ন মেথডে বদলে যায় লক্ষ্য। পাওয়ার প্লে হবে ৮ ওভারের।
টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে ২ ওভারে ৩ উইকেটে ০ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার ম্যাথু শর্ট ও কুপার কনোলি এবং ম্যাট রেনশ—এই তিন ব্যাটার মেরেছেন ডাক। ওপেনার শর্টকে বোল্ড করে তাসকিন আহমেদের শুরু। কনোলি, রেনশকে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ ধরেছেন লিটন দাস।
কিছুক্ষণ পর অস্ট্রেলিয়া ৭.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫ রানে পরিণত হয়। অ্যালেক্স ক্যারিকে (১৩) ফেরান মোস্তাফিজ। পঞ্চম উইকেটে ৫৯ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন অজি অধিনায়ক জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ইংলিসকে ফিরিয়ে থিতু হওয়া এই জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। ৩৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩৪ রান করেন ইংলিস।
ইংলিসকে ফেরানোর চার ওভার পর তানভীর কট এন্ড বোল্ড করেন গ্রিনকে (৫০)। তানভীর দ্রুত ২ উইকেট নেওয়ায় ২১.১ ওভারে ৬ উইকেটে ৮১ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া। সপ্তম উইকেটে হ্যাভিয়ের বার্টলেট ও লাবুশেন গড়েন ১১৫ বলে ১০৩ রানের জুটি। ৪১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাসকিনকে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান বার্টলেট। ৪৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় বার্টলেট করেন ৫২ রান। ঠিক তার পরের বলে অ্যাডাম জাম্পাকে (০) দারুণ এক স্লোয়ারে বোল্ড করেন তাসকিন। হ্যাটট্রিকটা অবশ্য করতে পারেননি তাসকিন।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মারনাস লাবুশেন। ৮৫ বলে ৩ চারে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশের মোস্তাফিজ, তাসকিন নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। তানভীর পেয়েছেন ২ উইকেট।