১২৯ রানের লক্ষ্য বর্তমান টি-টোয়েন্টির বিচারে আহামরি কিছু নয়। তবে কখনো কখনো বোলাররা এতটাই দাপট দেখান যে ব্যাটারদের রান করতে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে যায়। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম রয়্যালস-রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচটা হয়েছে এমনই। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে শেষ বলে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের হাসান নাওয়াজ ২ রান নিতেই ডাগআউট থেকে উল্লাসে ফেটে পড়েন তাঁর সতীর্থরা।
চট্টগ্রাম রয়্যালস-রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ম্যাচের আগে চার দলের সমান ৮ পয়েন্ট হলেও নেট রানরেটের কারণে অবস্থান ছিল ভিন্ন। চট্টগ্রাম রয়্যালস পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। দুই, তিন ও চারে ছিল রংপুর রাইডার্স, সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেটে আজ যে দলই জিতত, সেই দলই থাকত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। শেষ বলের রোমাঞ্চে ২ উইকেটের জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখল চট্টগ্রাম।
হাতে ২ উইকেট নিয়ে শেষ ওভারে ১০ রানের সমীকরণের সামনে এসে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। বোলিংয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এসএম মেহেরব। চট্টগ্রামের হাসান নাওয়াজ প্রথম দুই বলেই ডাবলস নিয়েছেন। তৃতীয় বলে সোজা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে হাসান নাওয়াজ চার মারলে সমীকরণ চট্টগ্রামের নাগালে চলে আসে। কিন্তু রোমাঞ্চের যে তখনো অনেক বাকি। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ডট দেন মেহেরব। শেষ বল লং অফে ঠেলে ২ রান নিয়ে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন হাসান নাওয়াজ। চট্টগ্রামের ডাগআউটে উল্লাস দেখা গেলেও হতাশায় বল আছড়ে ফেলেন রাজশাহীর স্পিনার মেহেরব।
১২৯ রানের লক্ষ্যে নেমে চোখে রীতিমতো সর্ষেফুল দেখতে থাকে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৪.২ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮ রানে পরিণত হয় চট্টগ্রাম। বিপদে পড়া চট্টগ্রামের হাল ধরেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ও হাসান নাওয়াজ। পঞ্চম উইকেটে ৪০ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তাঁরা (মেহেদী-হাসান নাওয়াজ)। ১১তম ওভারের শেষ বলে মেহেদীকে (২৮) বোল্ড করে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সন্দীপ লামিচানে।
চার নম্বরে নামা হাসান নাওয়াজ একপ্রান্ত আগলে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন আসিফ আলী ও হাসান নাওয়াজ। ১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে আসিফকে (২৭) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বিনুরা ফার্নান্দো। আসিফ আলী তুলে মারতে গেলে আকাশে ভেসে থাকা বল লং অফ থেকে দৌড়ে ডাইভ দিয়ে ধরেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
আসিফ ফেরার পর ১৬.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১০৩ রান থেকে মুহূর্তেই ১৮.৪ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৯ রানে পরিণত হয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। এরপর শেষ বল পর্যন্ত খেলে চট্টগ্রামকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন হাসান নাওয়াজ। ৩৬ বলে ২ চারে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্দো ৪ ওভারে ১৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এক ওভার মেডেনও দিয়েছেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান নাওয়াজ। ৩৫ রানের ইনিংসের পাশাপাশি ২ ওভারে ১৩ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
এর আগে আজ টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। আগে ব্যাটিং পাওয়া রাজশাহী ওয়ারিয়র্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে করেছে ১২৯ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন এসএম মেহেরব ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। যাঁর মধ্যে ওয়াসিম ১৪ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় করেন ১৯ রান। চট্টগ্রামের শরীফুল ইসলাম, তানভীর ইসলাম নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। যার মধ্যে তানভীর ৪ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।