আইপিএল অভিষেকে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন সাকিব হুসেইন। যে রাজস্থান রয়্যালস এবারের আইপিএলে হয়ে উঠেছিল অপ্রতিরোধ্য, সেই দলটি তাঁর পেস বোলিংয়ের কাছে হার মেনেছে। অথচ এই সাকিবের অভিষেক হতে পারত দুই বছর আগেই।
২০২২-২৩ সালে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি দিয়েই সাকিবের টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক। প্রথম মৌসুমে তিনি খেলেছিলেন বিহারের হয়ে। প্রথম ম্যাচে ২ ওভারে ২৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। তবে ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগেনি। গুজরাটের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ২ ওভারে ২০ রানে ৪ উইকেট। যেটা ছিল তাঁর টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় ম্যাচ। এই সাকিবকে ২০২৪ আইপিএল নিলামের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স সাকিবকে সরাসরি চুক্তিতে নিয়েছিল। কিন্তু সেই টুর্নামেন্ট তাঁর কেটেছে কলকাতার ডাগআউটে বসে। কোনো ম্যাচ না খেলিয়েই পরের মৌসুমের আগে তাঁকে বাদ দেয় আইপিএলের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
শুরুতে তেমন সুযোগ না পেলেও সাকিব দমে যাননি। ২০২৫-২৬ মৌসুমের মুশতাক আলী ট্রফিতে বিহারের জার্সিতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ২০২৬ আইপিএল নিলামের আগে তাঁকে ৩০ লাখ রুপিতে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সেই সাকিবের অভিষেক হয়েছে হায়দরাবাদের পঞ্চম ম্যাচে এসে। তাও আবার ট্রাভিস হেডের ইমপ্যাক্ট সাব হিসেবে। সুযোগের সদ্ব্যবহার সাকিব করেছেন দারুণভাবে। ৪ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। যার মধ্যে রয়েছে ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালের উইকেটও। তিনি বিস্ফোরক হয়ে উঠলে কী করতে পারেন, সেটা তো কারও অজানা নয়।
রাজস্থান রয়্যালস মূলত গতকাল ধসে গিয়েছে দুই অভিষিক্ত সাকিব হুসেইন ও প্রফুল হিঙ্গের বোলিংয়ে। ২১৭ রান তাড়া করতে নেমে ৩ ওভারে ৫ উইকেটে ৯ রানে পরিণত হয় রাজস্থান। এই পাঁচ উইকেটের চারটিই নিয়েছেন হিঙ্গে। যেখানে ইনিংসের প্রথম ওভারে বৈভব সূর্যবংশী, ধ্রুব জুরেল, লুহান ড্রি প্রিটোরিয়াস—এই তিন ব্যাটারকে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরিয়েছেন হিঙ্গে। এরপর রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগকে নিজের চতুর্থ শিকার বানিয়েছেন হিঙ্গে। ৪ ওভারে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেওয়া হিঙ্গেই পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
হিঙ্গে যেখানে রাজস্থান রয়্যালসের টুঁটি চেপে ধরেছেন, সাকিব সেখানে মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন। ৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে রাজস্থান। ষষ্ঠ উইকেটে ৭২ বলে ১১৮ রানের জুটি গড়েন রবীন্দ্র জাদেজা ও ডোনোভান ফেরেইরা। ১৫তম ওভারের শেষ বলে ফেরেইরাকে (৬৯) অসাধারণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন সাকিব। ফেরেইরাকে ফেরানোর পর জফরা আর্চার ও রবি বিষ্ণুইকে ফেরান সাকিব।
আইপিএলে যে দ্রুতই অভিষেক হতে যাচ্ছে, সেটা আগেই অনুমান করতে পেরেছিলেন সাকিব। ম্যাচসেরা না হলেও যা করেছেন, তাতে তিনি ভীষণ খুশি, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ই এমন অভিষেকের স্বপ্ন দেখে। বোলিং কোচ এক দিন আগে বলেছিলেন যে আমি খেলব। আমি প্রস্তুতও ছিলাম। খুবই ভালো লাগছে।’
অ্যানড্রু টাই, আলজারি জোসেফ, শোয়েব আখতার, কেভন কুপার, অশ্বনি কুমার, ডেভিড ভিজে—গতকালের আগ পর্যন্ত আইপিএল অভিষেকে চার বা তার বেশি উইকেট নিয়েছিলেন এই ছয় বোলার। যাঁদের মধ্যে জোসেফ ১২ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ২০১৯ আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে। সেবার তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। গতকাল এই তালিকায় সপ্তম ও অষ্টম বোলার হিসেবে নাম লেখালেন সানরাইজার্সের হিঙ্গে ও সাকিব।