পাকিস্তান তো এমনই! যখন খাদের কিনারায় পড়বে, তখনই ফিরে আসবে সেরা রূপে। সুপার এইটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হলোও তাই। ভয়ডরহীন মানসিকতায় দুই ওপেনার করলেন চোখজুড়ানো ব্যাটিং। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্বাগতিক হয়েও শ্রীলঙ্কা তাদের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছে আগেই। দুই নম্বর গ্রুপ থেকে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড ঝুলে আছে। তাদের বাড়ি ফেরার টিকিট কাটাতে পাকিস্তানের শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে অন্তত ৬৫ রানের ব্যবধানে। শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকাতে পারলেই সালমান আলী আগার দল নাম লেখাবে সেমিফাইনালে।
পাল্লেকেলেতে আজ টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২১২ রান করেছে পাকিস্তান। একাদশে তিন পরিবর্তনে দলের চিত্রটাই যেন বদলে ফেলে। ওপেনিংয়ে সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে আসেন ফখর জামান। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই আসে ৬৪ রান। ফারহানের একার সেখানে অবদান ৪০ রান।
সেই ধারা চলতে থাকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত। ফখর জামানের আউট হওয়ার মাধ্যমে ভাঙে ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে যে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। ৪২ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ রানে শেষ হয় ফখরের বিস্ফোরক ব্যাটিং। পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক তিনি। ৯৯ ছক্কায় টপকে গেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (৯৫)।
ফখর না পারলেও ফারহান ঠিকই ৫৯ বলে তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর দুই সেঞ্চুরির দুটিই এসেছে এবারের বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপের এক আসরে দুই সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার তিনি। শুধু তা–ই নয়, বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বেোচ্চ রান সংগ্রাহকের তকমাটা এখন তাঁর দখলে। ২০১৪ বিশ্বকাপে ৩১৯ রান করেছিলেন বিরাট কোহলি। ভারতের সাবেক এই ব্যাটারকে পেছনে ফেলে ফারহান তুলেছেন ৩৮৩ রান। সেঞ্চুরির পরের বলেই অবশ্য থামে তাঁর ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ১০০ রানের ইনিংস।
এমন দারুণ শুরুর পরও শেষে গিয়ে একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা পাকিস্তানের। শেষ ৪ ওভারে ৩৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি তারা। উল্টো হারিয়েছে ৭ উইকেট। লঙ্কানদের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন দিলশান মাদুশঙ্কা।