টাকা উদ্ধার অভিযানের নামে অনেকের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
আসিফ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, আজকে সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দলের নেতাদের টাকা উদ্ধারের অভিযানের নামে অনেকের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।...আমি কয়েকটা রিল দেখলাম, মাত্র ২০ হাজার টাকা বহন করার কারণে জামায়াতের একজন নেতাকে ধরে হেনস্তা করা হচ্ছে। তাঁর থেকে ওই টাকা ছিনতাই করা হচ্ছে।’
এনসিপি মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বিগত ১৭ মাসে দেখছি যে কীভাবে চাঁদাবাজি হচ্ছে।...আমি একটা নিউজ দেখলাম যে কোনো একজন নেতার বাসা থেকে ৭ লাখ টাকা এবং ল্যাপটপ উদ্ধার। এখন আমার বাসায় তো ল্যাপটপ আছে। এখন ল্যাপটপ বাসায় রাখাটাও কি অপরাধ?’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বায়াসনেস (পক্ষপাতিত্ব) দেখতে পাচ্ছি, নানা ধরনের। যাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, সেটা ইলেকশন কমিশন থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে যারা রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দেখা যায়নি। মিডিয়ার মধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি, একধরনের একপাক্ষিক হয়ে অ্যাগ্রেসিভ মোডে (আক্রমণাত্মক) থাকার অ্যাপ্রোচ (অভিব্যক্তি) আজ সকাল থেকে আমরা দেখছি।’
বিভিন্ন আসনে এনসিপি ও জোটের প্রার্থী এবং নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আসিফ। পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া এবং নিষেধ করার কার্যক্রম চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, সে ক্ষেত্রে স্থানীয় যাঁরা নির্বাচনের দায়িত্বশীল আছেন, সকল প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন এবং লেভেল প্লেইং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) আগামীকাল নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত বজায় রাখবেন।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, লুৎফর রহমান, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর প্রমুখ।