বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো গুরুত্বসহকারে কভার করেছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে তাঁর ফেরাকে আগামী সংসদীয় নির্বাচন ও দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক মুখ্য ইভেন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৭ বছর নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। দলটি আশা করছে, তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে সমর্থকদের নতুন করে উদ্দীপ্ত করবে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত সড়কের দুপাশে লাখো নেতা-কর্মী ও সমর্থক দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফুল হাতে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করেন।
রয়টার্স আরও লিখেছে, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তিনি জুতা খুলে পা রেখে বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করেন এবং এক মুঠো মাটি তুলে নেন। সমাবেশে তিনি ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ বলে বক্তব্য শুরু করে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও ঐক্যের অঙ্গীকার করেন। শান্তি, গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
১৭ বছর পর তাঁর দেশে ফিরে আসা আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র করতে পারে বলেও মত দিয়েছে পত্রিকাটি।
অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) লিখেছে, তারেক রহমান লন্ডন থেকে নিজ দেশে ফিরে এসে সমর্থকদের উদ্দেশে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া এবং শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি সময়ে তিনি দেশে ফিরেছেন, যখন একটি অস্থায়ী প্রশাসনের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর দেশ।
কাতারভিত্তিক আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরার সময় ঢাকা বিমানবন্দর থেকে যাত্রাপথে হাজার হাজার সমর্থক তারেক রহমানকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা দিয়েছেন। একাধিক মামলার কারণে দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। ২০০৬–০৮ সালে সামরিক-সমর্থিত সরকারের আমলে নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতনের পর চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ মা খালেদা জিয়ার কারণে তাঁর দেশে ফেরা ব্যক্তিগতভাবেও জরুরি হয়ে ওঠে।
পত্রিকাটিতে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির আবারও ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক জরিপে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন সামনে রেখে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের ভঙ্গুর রাজনৈতিক রূপান্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিও তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবর খুব গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং প্রভাবশালী জিয়া পরিবারের প্রধান মুখ। ২০০৮ সাল থেকে তিনি লন্ডনে বসবাস করছিলেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরতে আশাবাদী।
তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে বাংলাদেশের নতুন বছরের রাজনৈতিক মূল ইভেন্ট হিসেবে দেখছে দি ইনডিপেনডেন্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ফিরেছেন। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ২০০৮ সালে সামরিক হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের পর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁর ফেরাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে। কড়া নিরাপত্তায় তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে তাঁর সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত বিপুল সমর্থকের ঢল নেমেছিল। সমাবেশে তিনি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁর মা খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে তিনি হাসপাতালে যাওয়ার কথাও জানান।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার রাজনৈতিক প্রভাব শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের মতামত নির্বাচনে একটি বড় সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।