কোনো তথ্য ছাড়াই সরাসরি যেকোনো ঘটনায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম জড়িয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে শেখ হাসিনা ও অন্যরা নিয়মিত এ ধরনের আচরণ করত এবং শেষ পর্যন্ত তারা কীভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জনরোষের শিকার হয়েছে, এটি অজানা নয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত এমপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপিসহ ছাত্রদলকে দোষ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, ঢাকা-৮ আসনের এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনী প্রচারণার বিধিসম্মত সময়ের অনেক আগেই ভোট চাইতে শুরু করেছিলেন। তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে যে ঔদ্ধত্য এবং প্রচারে থাকার জন্য যে মুখরোচক বক্তব্য, তা সবার নজরে পড়েছে।
মাহদী আমিন লেখেন, দেশি-বিদেশি মানুষের সামনে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, কখনো ভোটারের সঙ্গেই আক্রমণাত্মক আচরণ, আবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যাচার, এসবই হয়তো ভাইরাল হওয়ার কৌশল!
বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে নিয়ে অবিরত অশালীন আচরণ করা সত্ত্বেও তিনি যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং ইতিবাচকভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
মাহদী আমিন লেখেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হলো, আজ পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে, যেমনটি এর আগেও ঘটেছিল বলে আমরা দেখেছি। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই কোনো ধরনের প্রমাণ, তদন্ত বা সাক্ষ্য ছাড়াই, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করে বসেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমর্থনে এবং মির্জা আব্বাসের নির্দেশে ছাত্রদল ডিম মেরেছে।’
ড. মাহদী আমিন আরও লেখেন, ‘যেই হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এমনকি ঢুকতেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধা দিয়েছিল। দাওয়াত না থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন এত বহিরাগত লোক নিয়ে প্রবেশ করলেন, যাওয়ারই কথা না; অথচ তাঁর জন্য কারা ডিম রেডি রাখল বা মারামারি করল, এবং এই ঘটনার সঙ্গে তারেক রহমান, মির্জা আব্বাস বা ছাত্রদলের সম্পর্কই বা কী, সেটি বিরাট রহস্য।’
মাহদী আমিন আরও লেখেন, ‘কোনো তথ্য ছাড়াই সরাসরি যেকোনো ঘটনায় তারেক রহমানের নাম জড়িয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। ফ্যাসিবাদী আমলে শেখ হাসিনা ও অন্যরা নিয়মিত এ ধরনের আচরণ করত এবং শেষ পর্যন্ত তারা কীভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জনরোষের শিকার হয়েছে, এটি অজানা নয়।’
নির্বাচন যেন অযৌক্তিক নাটকীয়তার মঞ্চে পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে সবার সচেতন থাকা উচিত।