বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘হাসিনা পালিয়ে গেছে, আমরা আপনাদের পাশে আছি। প্রয়োজনে হিন্দু ভাই-বোনদের অধিকার রক্ষায় আমরা আমাদের বুকের রক্ত ঢেলে দেব। এই বিশ্বাস রাখতে হবে।’ আজ শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ভাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসংযোগ ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের আশ্বস্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের ওপর কোনো অন্যায়, অত্যাচার বা অবিচার আমরা হতে দেব না। আমাদের মা-বোনেরা আছেন, আপনারা মনে জোর নিয়ে কথা বলবেন। এ দেশ সবার, কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আমরা আপনাদের পরীক্ষিত মানুষ।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৫ বছর ধরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে যেত। যাকে পছন্দ করতাম, তাকে নির্বাচিত করতে পারতাম না। এবার ১২ তারিখে সুযোগ এসেছে। আপনারা পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। নৌকা মার্কাও এবার নেই। এখন আছে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লা। ধানের শীষ আমাদের পুরোনো পরিচিত। সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে আমরা আপনাদের পাশে থাকি। দাঁড়িপাল্লার মানুষদের আমরা খুব বেশি চিনি না। এখানকার প্রার্থী বাচ্চা ছেলে, আরও ওজনদার হতে হবে, বয়স হতে হবে। এমপি হতে গেলে মানুষের কাজ করতে হয়।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘একাত্তরে আমরা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। তারা আমাদের ভোটের রায় বাতিল করেছিল, আমাদের খাটো করে দেখত। গুলি করেছে, অত্যাচার করেছে, মা-বোনদের সম্মান নষ্ট করেছে। আমরা সেই কষ্ট ভুলিনি। শুকানপুকুরির স্মৃতিসৌধে যাদের নাম আছে, তাদের গুলি করে মেরেছে। যারা গুলি করেছে, তারাই এখন এই দলটাতে (জামায়াতে) আছে।’
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান আমরা একসঙ্গে বসবাস করি। এখানে মসজিদ আছে, মন্দির আছে—কোনো সমস্যা হয় না। আমরা একই বৃন্তের দুটি ফুলের মতো। হিন্দু ভাইয়েরা নিজ ধর্ম পালন করেন, কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা তৈরি করে কিছু লোক। ভয় পাবেন না। আমরা বিএনপি—জিয়াউর রহমানের বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা আপনাদের পাশে আছি।’